মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণ!

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:১৬ এএম

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। স্থানীয় সময় রবিবার বিকেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। নেতানিয়াহুকে বহনকারী বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রে অবতরণের পর দেশটিতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও গভীর করতে দুই নেতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে যাচ্ছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি এই সফরে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গেও বৈঠক করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিমানে ওঠার আগে নেতানিয়াহু বেশ কয়েক বার শান্তির প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, যুদ্ধে তারা যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা পাল্টে দিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, তারা নিরাপত্তা জোরদার করতে পারবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নেতানিয়াহু প্রথম কোনো বিদেশি নেতা হিসেবে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের শীর্ষ বৈঠকের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। দুই রুশ সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইউক্রেন যুদ্ধ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার ঘোষণা দিয়ে পুতিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। পুতিনও ট্রাম্পের নির্বাচনে জয়লাভের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ ও জ¦ালানি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প-পুতিন শীর্ষ বৈঠকের সম্ভাব্য স্থান নিয়ে আলোচনা চললেও এর আনুষ্ঠানিকতা কবে নাগাদ শুরু হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই বৈঠক ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মোড় নিতে পারে।

রাশিয়ার কর্মকর্তারা বারবার দাবি করেছেন, ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে ফোনালাপের প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো প্রত্যক্ষ যোগাযোগ নেই। তবে এ বছরের শেষ দিকে একটি শীর্ষ বৈঠক হতে পারে। তবে রুশ সূত্র দুটি জানিয়েছে, সম্প্রতি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাশিয়ার উচ্চপদের কর্মকর্তাদের সফর হয়েছে। সেখানে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে তারা নাম প্রকাশ করেননি। তবে কিছু কূটনীতিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সামরিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করে এই ধারণার বিরোধিতাও করেছে বলে জানিয়েছে রুশ সূত্র দুটি। এই বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ক্রেমলিনও কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প ও পুতিন উভয়েই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসকদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত