টিকটকে পরিচয় সেখান থেকেই বন্ধুত্ব। মায়ের চিকিৎসার জন্য বরিশাল থেকে ঢাকায় এসে সেই টকটকের বন্ধুর সঙ্গে গোপনে ঢাকা ছেড়ে চলে যান নওগাঁতে। ইতিমধ্যেই তার বাবার আবেগঘন স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরপর পুলিশ ও র্যাব তাকে উদ্ধারে কাজ করে। গত রবিবার রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে নিখোঁজের দুই দিনের মাথায় গতকাল মঙ্গলবার তাকে উদ্ধার করা হয় নওগাঁ সদরের মধ্যপাড়া এলাকা থেকে।
উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৫ এর সিপিসি-৩ জয়পুরহাটের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হক। র্যাব-২ ও র্যাব-৫ এর যৌথ অভিযানে উদ্ধারের পর তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল) বিকেল ৩টার দিকে নওগাঁ সদরের মধ্যপাড়া থেকে সুবাকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সে র্যাবের হেফাজতে আছে। পরিবারের লোকজন নওগাঁয় পৌঁছালে তাদের হাতে সুবাকে হস্তান্তর করা হবে।’
সুবা যাদের সঙ্গে ঢাকা ছেড়েছিলেন তাদের একজনকে আটক করেছে র্যাব। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে নওগাঁ সদরে নিয়ে গেছেন মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. মোমিন। ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটকে তাদের পরিচয় হয়। মোমিন রাজধানীর বঙ্গ বাজারের একটি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী। তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এদিকে উদ্ধারের পর এক ভিডিও বার্তায় সুস্থ আছে জানিয়ে সুবা বলে, ‘আমি ভালো আছি। আমি বাবার কাছে ফিরে যাব।’
গতকাল দুপুরে জানা যায়, নিখোঁজ স্কুলছাত্রী আরাবি ইসলাম সুবাকে নওগাঁয় দেখা যায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখান থেকেও সটকে পড়ে সে। মোহাম্মদপুর থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার ছবিতে দেখা যায়, এক ছেলের হাত ধরে ঘুরছে ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের জুয়েল রানা বলেন, ‘সুবার বাবা ইমরান রাজীব জিডি করার পরই শুরু হয় সিসিটিভি বিশ্লেষণ। সেখানে এক ছেলের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় সুবাকে। সেই ছেলের বাড়ি নওগাঁয় চলে যায় সে।’ এর আগে মায়ের ফুসফুস ক্যানসারের চিকিৎসা করাতে ঢাকায় এসে রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট এলাকা থেকে ১১ বছর বয়সী সুবা নিখোঁজ হয়।
