বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের পরই বোঝা হয়ে গিয়েছিল নাইম শেখের হাতে উঠতে যাচ্ছে এবারের আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পুরস্কার। তবুও চোখ রাঙানি দিচ্ছিলেন ফাইনালে ওঠা তিন জন। গ্রাহাম ক্লার্ক, তামিম ইকবাল ও শামীম হোসেন। কিন্তু তাদের কেউই শেষ পর্যন্ত ছুঁতে পারেননি নাইমকে। এবার বিপিএলের একাদশতম আসরে ৫১১ রান করে সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হয়েছেন নাইম শেখ। প্লে-অফ পর্বের আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেলেও সর্বোচ্চ উইকেট সংখ্যায় তাসকিন আহমেদের ধারেকাছে যেতে পারেননি আর কেউ। ২৫ উইকেট নিয়ে শুধু এবারের আসরেই নয়, বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হওয়ার কৃতিত্বও নিজের করে নিয়েছে ঢাকা এক্সপ্রেস।
বাংলাদেশের হয়ে ৩৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রতিনিধিত্ব করেছেন খুলনা টাইগার্সের ওপেনার নাইম শেখ। ২০২২ সালে সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলেছিলেন তিনি। ফর্মহীনতায় ভুগতে থাকা নাইম তারপর বাদ পড়েন দল থেকে। সেই নাইমই এবার এনসিএল টি-টোয়েন্টির পর বিপিএলেও সর্বোচ্চ রান করলেন। আসরে ১৪ ইনিংসে ব্যাটিং করে ১টি সেঞ্চুরি ও ৩টি ফিফটির দেখা পেয়েছেন। ৪২.৫৮ গড় ও ১৪৪ স্ট্রাইক রেটে ৫১১ রান করে হয়েছেন বিপিএলের এক আসরে পাঁচশর বেশি রান করা তৃতীয় ব্যাটসম্যান। এর আগে ২০১৮-১৯ মৌসুমে ৫৫৮ রান করেছিলেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান রাইলি রুশো। ২০২২-২৩ মৌসুমে নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে এসেছিল ৫১৬ রান।
এক আসরে সর্বোচ্চ রানের কীর্তি নাইম গড়তে না পারলেও সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের নজির নিজের করে নিয়েছেন তাসকিন। ২০১৯ বিপিএলে ২৩ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। এতদিন বিপিএলের এক আসরে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি ছিল সেটিই। এবারের আসরে সাকিবকে ছাপিয়ে যান তাসকিন। লিগ পর্বের ১২টি ম্যাচের সবগুলো খেলে তাসকিন শিকার ধরেন ২৫টি। এর মধ্যে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচে ১৯ রানে ৭ শিকার ধরে রেকর্ড বই তছনছ করে দেন তিনি। বিপিএল ইতিহাসে সেরা বোলিং তো বটেই, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সেরা এবং বৈশ্বিক ক্রিকেটে তৃতীয় সেরা নৈপুণ্যও এটি। টি-টোয়েন্টিতে এর আগে ৭ উইকেট নেওয়া বাকি দুই বোলার হলেন মালয়েশিয়ার সিয়াজরুল ইদরুস ও নেদারল্যান্ডসের কলিন অ্যাকারম্যান। এ কীর্তির পথে তাসকিনের আসরে বোলিং গড় ছিল ১২.০৪, ইকোনমি ৬.৪৯।
