কেন্দ্রীয় ব্যাংক

কর্মকর্তাদের দুর্নীতির তদন্ত থেকে দুদক পরিচালক প্রত্যাহার

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:০৫ এএম

সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরীসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির তদন্তকাজ থেকে দুদকের পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জামানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও লকার নিয়ে লেখালেখির কারণে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুদকের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।

তিনি আরও বলেন, পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জামানকে তদারককারী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি অনুসন্ধানের দায়িত্বে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসন্ধান সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করার কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। লেখালেখির কারণে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিসও দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের লকারে অভিযান চালানো দুদক পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত সপ্তাহে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজী সায়েমুজ্জামানের বিভিন্ন মন্তব্যের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপত্তি জানায়।

চিঠিতে বলা হয়, কাজী সায়েমুজ্জামান বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারণাপ্রসূত বিভিন্ন মন্তব্য করে যাচ্ছেন। এ ধরনের মন্তব্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার-সংক্রান্ত নীতিমালার পরিপন্থী। চিঠির সঙ্গে প্রশাসন ক্যাডার থেকে দুদকে প্রেষণে আসা দুদক পরিচালকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন মন্তব্যও যুক্ত করে দেওয়া হয়।

দুদকের তথ্যমতে, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করে অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জন, শেয়ারবাজার থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, রিজার্ভের অর্থ তছরুপ ও সঞ্চয়পত্র জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক-বর্তমান ২৫ কর্মকর্তাকে নজরদারিতে রাখে দুদক। গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযান চালায় সংস্থাটি। বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারসহ ২৫ কর্মকর্তার নামে কোনো লকার খুঁজে পায়নি তারা। অভিযান শেষে এ তথ্য জানান অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কাজী সায়েমুজ্জামান।

তিনি বলেন, ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান যে ২৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানের জন্য এসেছিলাম, তাদের নামে কোনো লকার পাওয়া যায়নি। তবে আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। আদালতের অনুমোদনের ভিত্তিতে পরে অভিযান চালাবে দুদক।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি আদালতের অনুমতি নিয়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দুদক টিম বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েন ভল্টে রক্ষিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীর সেফ ডিপোজিট তল্লাশি করে। তখন ভল্টে তিনটি সিলগালা কৌটা খুলে ৫৫ হাজার ইউরো, ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার, ১০০৫.৪ গ্রাম স্বর্ণ ও ৭০ লাখ টাকার এফডিআর পাওয়া গেছে, যা তার নিয়মিত আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি। গত ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ভল্টে কর্মকর্তাদের অর্থ-সম্পদ জমা রাখার ব্যক্তিগত সব লকার সাময়িকভাবে ফ্রিজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গভর্নরকে চিঠি দেয় দুদক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত