অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ প্রদান করা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৬টি কমিশনের সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। প্রদত্ত সুপারিশগুলো নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা, বিতর্ক এবং বিরোধ পর্যন্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে, সংবিধান সংস্কার কমিশন বিদ্যমান সংবিধানের প্রস্তাবনা, মৌলিক নীতিমালাসহ বেশ কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে। এই সুপারিশগুলো প্রস্তাবনা হিসেবে ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগুলো চূড়ান্ত করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবন যেমন রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়, তেমনি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎও নির্ধারিত হয় রাজনীতির মাধ্যমেই। কিন্তু সমাজের অভ্যন্তরে গোপনে অথচ শক্তিশালীভাবে প্রভাব বিস্তার করে অর্থনীতি। সেই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা খুবই কম করা হচ্ছে। বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে নানা স্তরে এবং নানা পর্যায়ের আন্দোলনের ফলে সংঘটিত হয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান। তীব্র রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারকে উচ্ছেদ করার মাধ্যমে মানুষ শুধু বিজয়ী হয়েছে তাই নয়, তাদের দাবির ন্যায্যতাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে শুধু রাজনৈতিক দলগুলো নয়, সমাজের সব স্তরের মানুষের বিপুল আকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছে অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে। গণমানুষের প্রত্যাশার চাপ বিপুল। দেশে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এই আকাক্সক্ষা মানুষের দীর্ঘদিনের। এই আকাক্সক্ষা পূরণ করতে হলে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যেমন দরকার, তেমনি দরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপযোগী প্রশাসন, পুলিশব্যবস্থা। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা মনে করি জনমতের সঠিক প্রতিফলন, জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার মতো নির্বাচনব্যবস্থা তৈরি করতে হলে প্রয়োজন নির্বাচনের ওপর ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা, টাকা, পেশিশক্তির প্রভাব বন্ধ করা এবং সাম্প্রদায়িকতাকে নির্বাচনে ব্যবহার বন্ধ করা। আমরা মনে করি, এই কঠিন অথচ প্রয়োজনীয় কাজ করতে সরকারের সামর্থ্য, সময় এবং পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে।
দেশের উন্নয়নের কথা সব সরকার বলে বিশেষ করে গত ১৫ বছরে উন্নয়ন একটি বুলিতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু উন্নয়নের একটা দার্শনিক ও নৈতিক পটভূমি থাকা দরকার। উন্নয়ন কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়। প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেই যে দারিদ্র্য কমে না বাংলাদেশ তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। মাথাপিছু আয়, প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি উন্নয়নের শেষ কথা নয়। মানব উন্নয়নে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত বৈষম্য দূর করা। বৈষম্য ব্যাপারটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়। অর্থনৈতিক বৈষম্য দৃশ্যমান হয় সহজেই। কিন্তু শেষ বিচারে বৈষম্যের একটা নৈতিক দিক আছে। একটি সমাজে বৈষম্য এমন পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয়, যেখানে মুষ্টিমেয় একদল মানুষ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন, অন্যদিকে বেশিরভাগ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করবেন, এটা কোনো বিচারেই নৈতিক হতে পারে না। দ্বিতীয় যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, বস্তুগত উন্নয়নই কি সমাজ উন্নয়নের মাপকাঠি? মানুষের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, তার অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিই কি শেষ কথা? প্রত্যেক মানুষের অধিকার, মর্যাদা, প্রত্যেক মানুষকে শ্রদ্ধার জায়গায় দেখা এবং রাখা উন্নয়নের একটা বিরাট দিক। মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি সত্ত্বেও সমাজে যদি একজন মানুষের মধ্যে অন্য মানুষের প্রতি সৌহার্দ্য, মমত্ববোধ না গড়ে ওঠে, অপরের প্রতি যদি শ্রদ্ধা না থাকে, তাহলে উন্নয়নের প্রতি মানুষের আস্থা এবং সামাজিক ভারসাম্য থাকবে না। বস্তুগত উন্নয়ন অর্জন করলেও দেশের মানুষের যদি সহনশীলতা চলে যায়, পরমতসহিষ্ণুতা যদি না থাকে, তাহলে উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ, প্রকৃত লক্ষ্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই আমাদের সমাজে সন্ত্রাস, গায়ের জোর যেন সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে, সহিংসতা, বিরোধী মতকে দেখে নেওয়া যেন আমাদের ভাষা হয়ে গেছে। এটা যদি চলতে থাকে তাহলে উন্নয়নের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত উন্নত মানুষ তৈরি হবে না।
আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র থাকবে কি না? প্রকৃতপক্ষে ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্যানধারণাটি বাংলাদেশে পাকিস্তান সৃষ্টির আগে থেকেই ছিল। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯১৮ সালে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ সম্মেলনে বলেছিলেন, হিন্দু জমিদার এবং মুসলমান জমিদার, হিন্দু মহাজন এবং মুসলমান মহাজনের শোষণ-নিপীড়নের মধ্যে কোনো তারতম্য নেই। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সব দরিদ্র কৃষক একইভাবে শোষণ-নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। কাজেই মুসলমান কৃষকদের শোষণের বিষয়টি সাম্প্রদায়িক নয়, এর মূলে রয়েছে জমিদারি ও মহাজনী ব্যবস্থায়। এ জন্য হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িকতা পরিহার করে জমিদারি ও মহাজনী ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা উচিত। পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ধর্মনিরপেক্ষতার গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন। ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট গণপরিষদের প্রথম সভায় তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, পাকিস্তান হবে এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগ করবে। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, ‘তোমরা স্বাধীন; তোমরা তোমাদের মন্দিরে যেতে স্বাধীন, তোমাদের মসজিদে যেতে স্বাধীন অথবা পাকিস্তান রাষ্ট্রের যেকোনো উপাসনালয়ে যেতে স্বাধীন। তোমরা যেকোনো ধর্ম-বর্ণের হতে পারো, এটা রাষ্ট্রের কোনো বিষয় নয়। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে রাজনৈতিক বিবেচনায়, ধর্মীয় বিবেচনায় নয়।’ জিন্নাহর মৃত্যুর পর পাকিস্তানের তৎকালীন নেতারা তার আদর্শ থেকে সরে আসেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মকে একীভূত করে ফেলেন। যার ফল ভোগ করেছেন দেশের মানুষ। জীবন ও রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়েছে। কিন্তু সংস্কার কমিশন তার সুপারিশে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন এবং যুক্তি দেওয়া হয়েছে এই বলে যে, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের বিদ্যমান বহুত্ববাদী সমাজের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং মূলত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাবিরোধী।’ কিন্তু একটু চিন্তা করলেই দেখা যাবে যে, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বহুত্ববাদ পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরস্পরের পরিপূরক। ধর্মনিরপেক্ষতার প্রায়োগিক দিক হলো, সব ধর্মবিশ্বাসীকে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম বা বিশ্বাস প্রতিপালনের নিশ্চয়তা প্রদান করা, যা প্রকারান্তরে সব ধর্মবিশ্বাসীর সহাবস্থান নিশ্চিত করে। যে কারণে প্রতিটি রাষ্ট্রেই ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ প্রত্যাশা করে রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র নিয়ে থাকুক, ধর্মনিরপেক্ষতা একটি মানবিক মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হোক। পাশাপাশি আরও একটি বিষয় বিবেচনা করা দরকার। বাংলাদেশের মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়েছে বারবার। জনগণের আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার বিদায় হলেও প্রতিবারই ক্ষমতাসীনদের মধ্যে দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী হওয়ার প্রবণতা গড়ে ওঠে। শুধু আইন বদলালেই স্বেচ্ছাচারী হওয়া প্রতিরোধ করা যায় না, জনগণের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলাটাও দরকার। ফলে স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক লড়াই অব্যাহত রাখা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অন্যতম রক্ষাকবচ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আন্দোলনের স্বাধীনতা ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অগ্রসর করে নেওয়া সম্ভব নয়।
সংস্কার কমিশনগুলো যেসব সুপারিশ দিয়েছে তা গণতান্ত্রিক অধিকার বিকশিত করার পক্ষে কতটুকু সহায়ক সেটা পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। বিগত কয়েক মাসে জনগণ জীবন, রক্ত ও অশ্রুর বিনিময়ে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করে যে অন্তত নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তৈরি করেছে তা নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার ঘটনা দেশের জনগণ প্রত্যক্ষ করেছেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা মানুষকে হতাশ করেছে। মব ভায়লেন্স শুধু আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ বিনষ্ট করে তা নয়, মানুষের মধ্যে যুক্তিহীন শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা তৈরি করে। ইতিমধ্যে মাজার ধ্বংস, সরকারি স্থাপনা, পরাজিত প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ধ্বংস, নারীদের খেলা বন্ধ, বাউলদের অনুষ্ঠান বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জোর করে পদত্যাগ করানো, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, দার্শনিক, সাহিত্যিকদের নামে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ও ভবনের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সভা-সমাবেশ বন্ধে পুলিশি নিপীড়ন, সরকারি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা মানুষের মনে শঙ্কা ও ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এর অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। অভ্যুত্থানের পর ৬ মাস পার হয়েছে, ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের ৬ মাস নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা প্রয়োজন। এর ফলে সরকারের সাফল্য ও ব্যর্থতার একটি চিত্র জনগণের সামনে উন্মোচিত হবে এবং কী করণীয় সে সম্পর্কে একটি পথরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর যেমন মতামত দেওয়া প্রয়োজন, তেমনি এ বিষয়ে দেশের জনগণেরও বিপুল আগ্রহ আছে। সুপারিশগুলো সম্পর্কে যতটুকু জানা গেছে, তাতে মনে হয়েছে এসব নিয়ে ব্যাপক ও বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন। সংস্কার সুপারিশগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ধরে নিয়ে কিছু সংস্কার যেমন দ্রুত করা দরকার, কিছু সংস্কার তেমনি দীর্ঘসময় ধরেও করতে হবে। কিছু সুপারিশ গ্রহণযোগ্য, কিছু নিয়ে বিতর্ক হবে, আবার কিছু সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ হতে পারে বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে। ফলে ঐকমত্য তৈরি করতে আলোচনার সুযোগ এবং সময় প্রয়োজন হবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মতামত প্রদান, সেগুলো নিয়ে সাধারণভাবে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে খুবই ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করতে হবে। কিছু বিষয়ে যেমন একমত হওয়া সম্ভব হবে আবার কিছু বিষয়ে একমত হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফলে এই জটিল এবং সময়সাধ্য কাজ সৌজন্যমূলক বৈঠকে সম্পন্ন করা যাবে না। এটাকে সত্যি হিসেবে ধরে নিয়েই তাই প্রতিটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরেও এই সুপারিশগুলো নিয়ে আলোচনা করা খুবই দরকার। প্রতিটি দলের কাছ থেকে মতামত নিয়ে সুপারিশগুলো সুনির্দিষ্ট ও যথাযথ করতে হবে। কাজটা সহজ নয়। ফলে আপাতত যতটুকু প্রশ্নে একমত হওয়া যায় ততটুকুকে ভিত্তি হিসেবে ধরে এগোতে হবে। আন্দোলনের মধ্যে গড়ে ওঠা আকাক্সক্ষা আর আন্দোলনে বিজয় অর্জনের পরে তৈরি হওয়া প্রস্তাবনার মধ্যে যেন আকাশ-পাতাল ফারাক না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকাও দরকার। ইতিমধ্যে সেসব বিষয়ে বিরোধ এবং শঙ্কা দেখা দিয়েছে তা নিষ্পত্তির ব্যাপারে সচেতন উদ্যোগ নিতে হবে।
লেখকঃ রাজনৈতিক সংগঠক ও কলাম লেখক
