ঠাকুরগাঁওয়ের আলুর কদর সীমানা পেরিয়ে

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:৪৪ এএম

কৃষিনির্ভর জেলা ঠাকুরগাঁও ধান, গম, পাট, আখ, আম উৎপাদনে সমৃদ্ধ। এ জেলার অর্থকরী ফসলের তালিকায় এবার যুক্ত হলো আলু। এ মৌসুমে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশে এখানকার আলু রপ্তানি শুরু হয়েছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এখন উচ্চমানের আলু উৎপাদনে আরও বেশি উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে আলুর আবাদি জমির পরিমাণ ৩৪ হাজার ৫০০ হেক্টর। এর মধ্যে আগাম আলু চাষ হয়েছে ১ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে। সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে শুধু এই উপজেলা থেকেই ১১৫ মেট্রিক টন গ্র্যানোলা জাতের আলু নেপালে রপ্তানি হয়েছে। সানশাইন জাতের ৪৫ মে.টন আলু রপ্তানি হয়েছে মালয়েশিয়াতে। যা রপ্তানি করছে নাইম এগ্রো। ুএর প্রধান নির্বাহী আল ইমরান জানান, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার আলু চাষিদের মধ্যে সানশাইন জাতের আলু চাষের উদ্যোগ সফল হয়েছে। এর গুণগত মান আন্তর্জাতিক বাজারে সমাদৃত হচ্ছে।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে আলুর দাম প্রতিকেজি ১০ থেকে ১২ টাকার মধ্যে থাকলেও বিদেশে রপ্তানির ফলে প্রতিকেজিতে ১৫ থেকে ১৭ টাকা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কৃষকরা কিছুটা হলেও লাভবান হচ্ছেন। সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কৃষক কাজল জানান, এতদিন দেশীয় বাজারে আলু বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে শুনে খুবই খুশি। এতে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাবে। আর আমাদের উৎপাদনও বাড়বে। পীরগঞ্জের কৃষক জামাল হোসেন বলেন, আমাদের উৎপাদিত আলু যদি ভালো দামে বিদেশে যায়, তাহলে আমরা আরও বেশি আলু চাষে আগ্রহী হব। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসিরুল আলম জানান, জেলার কৃষকরা এখন আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আলু উৎপাদন করছেন। এতে মান বজায় থাকছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। কৃষকরা যাতে আরও উন্নত প্রশিক্ষণ পান, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত