গাজায় নরক গুলজারের হুঁশিয়ারি

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:২০ এএম

১৫ মাসের যুদ্ধের অবসানের পর গাজায় চলছে যুদ্ধবিরতি। তবে সম্প্রতি এ চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গাজা দখলের প্রস্তাবের পর জিম্মি মুক্তি নিয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের হুমকি দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার পর একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেল আবিবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, সব জিম্মিকে মুক্তি না দেওয়া হয়, গাজায় অবশ্যই নরকের দরজা খুলে দেওয়া হবে। যৌথ বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের একটি সাধারণ কৌশল রয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত কৌশলের বিস্তারিত আমরা সবসময় প্রকাশ করতে পারি না। যেমন নরকের দরজাগুলো কখন খুলে দেওয়া হবে। যদি আমাদের সব জিম্মিকে মুক্তি না দেওয়া হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবে দরজাগুলো খুলে যাবে। তিনি আরও বলেন, আমরা হামাসের সামরিক সক্ষমতা এবং গাজায় তাদের শাসন শেষ করে দেব। আমাদের সব জিম্মিকে আমরা বাড়ি ফিরিয়ে আনব এবং এটা নিশ্চিত করব যে, গাজা যেন কখনই ইসরায়েলের জন্য হুমকি না হয়ে দাঁড়ায়।

শুধু হামাসকেই নয়, ইসরায়েলের আরেক প্রতিপক্ষ ইরানকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, গত ১৬ মাসে ইরানের সন্ত্রাসী অক্ষকে এক শক্তিশালী আঘাত দিয়েছে ইসরায়েল। আমার কোনো সন্দেহ নেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শক্তিশালী নেতৃত্বে আমরা কাজটি শেষ করতে পারব এবং করব। কার্যত এ বক্তব্যের মাধ্যমে ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে নিষ্ক্রিয় ও দেশটির শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের মনোভাব প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরান কখনই একটি পারমাণবিক রাষ্ট্র হতে পারবে না। আমরা যদি হামাস বা হিজবুল্লাহর কথা বলি, পশ্চিম তীরে সহিংসতার কথা বলি, কিংবা সিরিয়ায় অস্থিরতার কথা বলি, অথবা ইরাকের মিলিশিয়া নিয়ে আলোচনা করিÑ এসব বিষয়ের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে ইরান। তিনি আরও বলেন, এটি অবশ্যই সমাধান করা দরকার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের আরোপিত ইসরায়েলে বোমা রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভারী এমকে-৮৪ বোমার চালান পেয়েছে ইসরায়েল। রবিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ট্রাম্প গত মাসে এ চালান অনুমোদন করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত