ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের দরিয়ন থেকে হারুয়া-সুটিয়া রাস্তা পর্যন্ত চার কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণের যৌথভাবে কাজ পায় মুজাহার এন্টারপ্রাইজ ও স্পার্ক ভিশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। স্থানীয় যুবলীগ নেতা আল আমিন নামের একজন কাজটির তদারকি করছেন। আগামী ২৬ মে কাজটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সড়কটি প্রশস্ত করতে গিয়ে বেশ কিছু অংশ প্যালাসাইডিং করতে হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই প্যালাসাইডিং ফাটল ধরে ধসে পড়েছে। তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের কাজ করার কারণে সড়কের প্যালাসাইডিং ফাটল ধরে ধসে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন সড়কে বালুর বদলে ফেলা হচ্ছে কাদা মাটি। রাস্তার কোনো কোনো স্থানে ড্রেজার দিয়ে পুকুর থেকে কাদাবালিও ফেলা হচ্ছে। রাতের আঁধারে ইউড্রেন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের মালামাল। ওগুলোয় দেওয়া হয়নি রড। এ ছাড়া ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে যেনতেনভাবে নির্মাণ হচ্ছে রাস্তাটি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সার্ভেয়ার নূর উদ্দিন জানান, ১৬টি ইউড্রেনের মধ্য ১০টির কাজ করা হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলছে। ওয়ার্ক অর্ডারে যেভাবে আছে, সেভাবেই কাজ হচ্ছে।
গত সোমবার টাঙ্গনগাতি মোড়সংলগ্ন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরের পাড় ঘেঁষে প্যালাসাইডিং করা বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে অনেকটাই ধসে গেছে।
টাঙ্গনগাতি গ্রামের উজ্জ্বল মিয়া, মাসুদ, মজলু, মুনসুর, খোকনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করায় রাস্তায় ফাটল দেখা দিয়েছে, প্যালাসাইডিং ব্লক খুলে যাচ্ছে। পুকুর থেকে কাদাবালু তুলে তার ওপর ব্লক বসানো হয়েছে। ব্লক যে এত দিন থেকেছে, সেটাই বেশি।’
তারা আরও বলেন, ‘পুরো রাস্তাতেই এমন কাদা মাটি ও কাদামিশ্রিত বালু দেওয়া হয়েছে। রাতের আঁধারে রাস্তার বিভিন্ন কালভার্ট (ইউড্রেন) করা হয়েছে রড ছাড়া ও নামমাত্র সিমেন্ট দিয়ে। আমাদের দাবি, সরকারি বরাদ্দের সব টাকা দিয়ে মজবুত করে যেন রাস্তার কাজ করা হয়।’
এ প্রসঙ্গে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের তদারকির দায়িত্বে থাকা যুবলীগ নেতা আল আমিন বলেন, ‘অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কাজের কোনো ত্রুটি হয়নি। কিছু লোককে চাঁদা না দেওয়ার আক্রোশে কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। আর টাঙ্গনগাতি প্যালাসাইডিং ব্লকে পলিথিন দেওয়া হয়নি, যে কারণে মাটির চাপে ফাটল ধরে কিছু অংশ ধসে পড়েছে। এ অংশটি রিপিয়ারিং করে দেওয়া হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছি। মোটামুটি স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ হচ্ছে। টাঙ্গনগাতি এলাকায় পুকুরের পাশে নির্মিত প্যালাসাইডিং ব্লক মাটির চাপে ধসে গেছে। এটি আবার সংস্কার করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া আরও খোঁজখবর নিচ্ছি, যাতে কোনো অনিয়ম না হয়। অনিয়ম হলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
