শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গতকাল শুক্রবার বইমেলায় ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। ভিড়ে জায়গা ছিল না স্বস্তিতে পা ফেলারও। মেলায় এত দর্শনার্থী এলেও বিক্রির ক্ষেত্রে তা খুব একটা প্রভাব ফেলেনি। বিক্রয়কর্মী ও প্রকাশকরা বলেন, বইমেলায় দর্শনার্থীরা আসছেন, ছবি তুলছেন, পরে চলে যাচ্ছেন।
গতকাল বইমেলার ছিল ২১তম দিন। সকাল ৭টায় খুলে দেওয়া হয় মেলার দুয়ার। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। সরেজমিনে দেখা যায়, ছুটির দিন হওয়ায় দর্শনার্থীরা একা, দলবেঁধে, বন্ধু, পরিবার বা প্রিয় মানুষের সঙ্গে ঘুরতে এসেছেন। কেউ কেউ মেলায় ঘুরছেন, কেউ বা ছবি তুলছেন আবার কাউকে তাদের পছন্দমতো বই কিনতেও দেখা গেছে। মেলায় ২১ দিনে নতুন বই এসেছে ২ হাজার ৩১৭টি। এরই মধ্যে গতকালই এসেছে ৩০৭টি।
বইমেলার তথ্যকেন্দ্রের তথ্যমতে, মেলায় এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে সবচেয়ে বেশি কবিতার বই। এ সংখ্যা ছয় শতাধিক। তবে বিক্রির ক্ষেত্রে পাঠকদের অপছন্দের তালিকায় অন্যতম হলো কবিতার বই। মান কমে যাওয়ায় পাঠকরা কবিতার বইয়ের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে মেলায় দর্শনার্থীদের পছন্দের বইয়ের মধ্যে উপন্যাস, থ্রিলার, সায়েন্স ফিকশন, সাহিত্য, অনুবাদধর্মী বই উল্লেখযোগ্য।
বইমেলা ঘুরে দেখা যায়, দর্শনার্থীরা সেজেগুজে দলবেঁধে মেলায় ঢুকছেন। তারা বিভিন্ন স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ছবি তুলছেন। কেউ কেউ কোনো স্টল বা প্যাভিলিয়নের সামনে বই হাতে নিয়ে ছবি তুলছেন। কিন্তু এরপর বই না কিনেই তারা বিদায় নিচ্ছেন। বিক্রয়কর্মী ও প্রকাশকদের মতে, গত বছর পাঠকের এমন দুর্দশা ছিল না।
মেলায় বই হাতে ছবি তুলতে থাকা এক দর্শনার্থী আসিফ শাহরিয়ার জানান, এখন অনলাইনে সব বই পাওয়া যাচ্ছে। তাই মেলায় সেভাবে বই কেনা হয় না। তাছাড়া, ছাত্র অবস্থায় হাত ভর্তি বই কেনার সামর্থ্যও নেই। তাই একটা বই কিনেছি, ছবি তুলে কিছুক্ষণ পর চলে যাব।
সময় প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, মেলায় এত এত মানুষ আসছেন কিন্তু বিক্রি তেমন হচ্ছে না। গত বছর এমন পরিস্থিতি ছিল না। এবার সবাই এসে শুধু ছবিই তুলছেন, এরপর চলে যাচ্ছেন।
সময় প্রকাশনের আরেক নারী বিক্রয়কর্মীও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, মানুষ দেখলে ভালো লাগে। ভাবি তারা হয়তো বই কিনতে আসবেন। কিন্তু না, তারা আমাদের প্যাভিলিয়নের সামনে আসেন, ছবি তুলে আবার চলেও যান। খুব কম দর্শনার্থী বই কেনেন।
অন্যপ্রকাশের দুজন বিক্রয়কর্মী বলেন, আমাদের স্টলে সবসময়ই বিক্রি ভালো হয়। তবে যে পরিমাণ দর্শনার্থী আসেন, সে হিসেবে বিক্রি তেমন একটা হচ্ছে না।
এ এইচ প্রকাশনীর প্রকাশক শাহ আলম বলেন, গত বছর অনেক বেশি বিক্রি হয়েছে কিন্তু এ বছর তেমন বিক্রি হচ্ছে না। যেমন মানুষ হচ্ছে সে অনুযায়ী বিক্রি নেই বললেই চলে। মানুষ বইয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
লেখাপ্রকাশ-এর প্রকাশক আলমগীর হোসেন বলেন, মানুষের বই কেনায় আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি না। একুশে ফেব্রুয়ারি আবার শুক্রবার হিসেবে অনেক বেশি বিক্রির আশা করেছিলাম। কিন্তু সকাল থেকে ১২টা পর্যন্ত কেউ একটি বইও কেনেননি। জুমার পরে অল্প কিছু বই বিক্রি হয়েছে। আশা করি, বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে ভালো বিক্রি হবে।
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল বইমেলা সকাল ৭টায় শুরু হয়, চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। আজ শনিবার বেলা ১১টায় বইমেলা শুরু হয়ে রাত ৯টায় শেষ হবে। তবে ৮টার পর কোনো দর্শনার্থীকে মেলায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
আজকের অনুষ্ঠান : আজ শনিবার অমর একুশে বইমেলার ২২তম দিন। মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর।
বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে হবে ‘জীবন ও কর্ম : কায়কোবাদ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইমরান কামাল। আলোচনায় অংশ নেবেন হাবিব আর রহমান। সভাপতিত্ব করবেন আবু দায়েন।
