বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) দেশের ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছিল ৫৯ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। আর চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে আমানত বেড়েছে ৩৪ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে আমানত বৃদ্ধির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৪২ শতাংশ। এদিকে সাতটি বেসরকারি ব্যাংকে রাখা প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা নগদায়ন করতে পারছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ‘রেড জোন’ বা প্রায় অচল হতে যাওয়া ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়-এ। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা বিভাগের সর্বশেষ ষাণ¥াসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ব্যাংকগুলোর অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক আরও ১৫টি ব্যাংককে তাদের আর্থিক পরিস্থিতি উন্নত করতে নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে প্রায় ২৯টি ব্যাংক মাঝারি ধরনের দুর্বলতার মধ্যে রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই রেটিং করা হয়েছে একটি বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে, যাকে ঈধসবষ জধঃরহম বলা হয়। এটি হলো ব্যাংক সুপারভাইজারি কর্র্তৃপক্ষ কর্র্তৃক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ৬টি সূচক ব্যবহার করে কোনো বিশেষ ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নির্ণয় করা, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এই ছয়টি সূচক হলো : মূলধনের পর্যাপ্ততা, সম্পত্তির গুণগতমান, ব্যাংক পরিচালনার মান, উপার্জন, তারল্য পরিস্থিতি এবং আর্থিক বাজারে ব্যাংকটির ঝুঁকির সংবেদনশীলতা।
সর্বজনীন পেনশন স্কিম ও আমানতে ধস : এখানে বলা আবশ্যক যে, ২০২৩ সালে ইউনিভার্সাল বা সর্বজনীন পেনশন স্কিম (ইউপিএস) প্রতিষ্ঠা করার পর সেটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এটি গঠনের পর ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সমস্ত নাগরিক, বেসরকারি এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য পেনসন স্কিম বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত থেকে নাগরিকদের মধ্যে সন্দেহ শুরু হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এটি নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি করা হয়, যার মূল বিষয় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের টাকা ‘মেরে দেওয়ার জন্য’ এই প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। তার আগে বেশ কিছু ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটে, যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা নানা সরকারি, বিশেষায়িত ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে লোপাট করে বিদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠে। এ রকম পরিস্থিতিতে অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে ও মিডিয়া প্রমোশন করার পরও মাত্র ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা তোলার পর এই প্রকল্প কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে। এরপর শুরু হয় মানুষজনের তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেওয়ার হিড়িক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপর, মানুষ আরও বেশি শঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ততক্ষণে বেশ কয়েকটি ব্যাংক আমানতকারীকে দিনে ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংককে মৌখিকভাবে ‘চলমান পরিস্থিতির মধ্যে এক লক্ষের বেশি নগদ উত্তোলনের অনুমতি না দেওয়ার জন্য’ নির্দেশ প্রদান করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রবীণ কর্মকর্তা বিষয়টি একটি শীর্ষ ইংরেজি দৈনিককে নিশ্চিত করেছিলেন। শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে গেলে, রাস্তায় পুলিশ টহল না থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ব্যাংকগুলোকে নাজুক পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। তাই সম্ভব হলে ব্যাংকগুলো যেন তাদের দূরবর্তী শাখাতে আপাতত টাকা না পাঠায় সে কথাও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই নির্দেশনামায় উল্লেখ করেছিল।
ব্যাংক লুণ্ঠন ও অর্থপাচারের ফল : বিপুল পরিমাণ টাকা উত্তোলন ও তার অব্যবহিত পরেই সেটি শক্তিশালী মুদ্রাতে (যেমন- ডলার, ইউরো ইত্যাদি) রূপান্তর এবং তারপর পাচার করার পর তা পাচারকৃত দেশে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ কেনায় ব্যবহৃত হয়। পাচার করার জন্য Over Invoicing/Under Invoicing-এর সাহায়্য নেওয়া ছাড়াও ‘হুন্ডি’ পদ্ধতিতে তা স্থানান্তর করা হয়। পাচারকারীরা একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বা গোপন কৌশল ব্যবহার করে অর্থ সরিয়ে নিলে তার হদিস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে কর্র্তৃপক্ষের পক্ষে চুরি হওয়া অর্থের সঙ্গে মূল অপরাধের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়টি জটিল করে তোলে। লুণ্ঠন ও পাচার করা অর্থ সাধারণত অতিথি দেশে সম্পত্তি ক্রয়, ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদে লগ্নি করা হয়, যাতে করে অবৈধ তহবিল একটি বৈধতা পায়। এর ফলে যে দেশ থেকে অর্থ চুরি হয়েছিল (এবং যেখানে এটি মূলত স্থানীয় মুদ্রায় ছিল), সেই দেশ বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়। প্রচুর পরিমাণে চুরি হওয়া অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ও ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে। কারণ পাচারকৃত অর্থ দেশে মোট মুদ্রা সরবরাহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল। গত ডিসেম্বরে দেশ থেকে অর্থ পাচার বিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের রাঘব-বোয়ালরা মোট ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২৮ ট্রিলিয়ন টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে (অনেকে এখানে উল্লিখিত পরিমাণের সঙ্গে একমত হননি)। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি রিপোর্ট (জিএফআইআরএস) এবং সুনির্দিষ্ট কিছু অনুমানের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। বিপুল পরিমাণ মুদ্রা পাচার হওয়ার কারণে ‘টাকা’ একটি দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। ডলার বা ইউরো ও অন্যান্য শক্তিশালী মুদ্রায় রূপান্তরের কারণে বাংলাদেশের টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়ন ঘটেছে। এতে করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের ওপর থেকে তাদের বিনিয়োগের আগ্রহ পাচ্ছেন না। এমনকি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে, যদিও সে রকম কোনো সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি বলেই মনে হচ্ছে।
পালের গোদা বাংলাদেশ ব্যাংক : বাংলাদেশ ব্যাংকের যে বিভাগগুলো দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, নীতিমালা প্রণয়ন, ফিল্ড ভিজিট ও আইন মানতে বাধ্য করে, সেখানেই সমস্যা ছিল বলে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক উটপাখির মতো বালিতে মাথা ঢুকিয়ে স্বস্তির ঢেকুর তুলেছে। আর পথে বসেছে সাধারণ আমানতকারী ও সৎ ব্যবসায়ীরা। ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সব সিদ্ধান্তের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো যেন রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। ভালো মানের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ওপর থেকে অহেতুক খবরদারি বন্ধ করতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। রাজনৈতিক অধিভুক্তি নয়, যোগ্যতা এবং দক্ষতার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে। সরকারি ব্যাংকগুলো যেন সত্যি সত্যি দক্ষতা ও পেশাভিত্তিক নীতিতে পরিচালিত হয় সেদিকে নজর দেওয়া আবশ্যক। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এখন পরিষ্কার হতে শুরু করেছে যে, ২০১৬ সালে ৮ কোটি ১০ লাখ ১ হাজার ৬২৩ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮১০ কোটি টাকা) চুরির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকতে পারেন। এদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ কোনো অবস্থাতেই পারিবারিক কর্র্তৃত্ব যেন খাটাতে না পারে সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব নিতে হবে। প্রায় দেখা যায়, পরিচালনা পরিষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিষদ যোগসাজশ করে বড় বড় ও মেয়াদি ঋণ বিতরণ করছে। আবার খড়ধহধনষব ঋঁহফ যতটুকু ঋণ দিতে পারে তার চেয়ে ঢের বেশি ঋণ দেওয়া হয়েছে যেখানে কোনো বন্দক রাখা হয়নি। এর চেয়ে বড় ব্যাংকিং ক্রাইম আর কী হতে পারে? ওই দুই পরিষদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিষদকে পুরোপরি পেশাভিত্তিক বিবেচনায় ব্যাংক চালানোর দায়িত্ব নিতে হবে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে সাক্ষী রেখে উভয়ের মধ্যে অলিখিত বা লিখিত মুচলেকা চালু করতে হবে।
জরুরি কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে : ব্যাংকের প্রতি আমানতকারী ও ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়াতে হবে। ব্যাংকগুলো তাদের প্রতি জনগণের বা সুবিধাভোগীদের আস্থার উন্নয়ন ঘটাবে। তারা তাদের ঋণনীতি ও প্রয়োজনে ঋণগ্রহীতার তথ্য সরবরাহ করে ব্যাংকিংয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। কীভাবে আমানত সুরক্ষিত করা হচ্ছে সেসব তথ্য (যেমন ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা বীমাকৃত অর্থ) আমানতকারীদের জানাবে। কোনো রকম লুকানো চার্জ ছাড়াই ফি নির্ধারণ, সুদের হার এবং আর্থিক নীতি, বিনিয়োগের জন্য কীভাবে তহবিল ব্যবহার করা হয়, সেসব তথ্য সহজ-সরলভাবে সংশ্লিষ্টদের জানাতে হবে। আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা বৃদ্ধি করতে হবে। ব্যাংকগুলোকে জনগণের অর্থের সুরক্ষা বৃদ্ধি করে জালিয়াতি প্রতিরোধে যথেষ্ট সোচ্চার হতে হবে। হ্যাকিং যেন না হয় এবং আমানতকারীর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য যাতে কোনোভাবে চুরি না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। সে জন্য সাইবারসিকিউরিটি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। শক্তিশালী জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং প্রতিরোধ মেকানিজম থাকতে হবে। সবসময় আপডেট করতে হবে প্রয়োজনীয় সফ্টওয়্যার। কীভাবে মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদ রাখা হচ্ছে, সে সম্পর্কে আমানতকারীদের নিয়মিত জানাতে হবে। গ্রাহক পরিষেবা উন্নত করতে হবে। কর্মীদের আরও গ্রাহককেন্দ্রিক ট্রেনিং প্রদান ও উন্নত নৈতিকতার অধিকারী করে তুলতে হবে। গ্রাহক কোনো সমস্যায় পড়লে যেকোনো সময় (২৪/৭ ভিত্তিতে) দ্রুত সেটির সমাধান করার অন্তরিক চেষ্টা নিতে হবে। অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় আমলাতান্ত্রিক বাধা হ্রাস করে নৈতিক ব্যাংকিং অনুশীলন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলতে হবে, যাতে করে আমানতকারীদের তহবিল বিপদে না পড়ে। টেকসই এবং সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে গ্রাহকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাংকগুলোকে স্টেকহোল্ডারদের কাছে প্রকাশ্যে এসব বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। নিজ নিজ গ্রাহকদের প্রচলিত আমানত জমা দেওয়ার পদ্ধতির বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হবে। সেটি হতে পারে ডিজিটাল ওয়ালেট বা হাইব্রিড ব্যাংকিং প্রবর্তন করা। হাইব্রিড ব্যাংক ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকদের সেবা দিতে পারে। বড় বড় বাজার যেমন ঢাকার কারওয়ান বাজার, শ্যামবাজার আর চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও কক্সবাজার, কুয়াকাটা ও বেনাপোলে হাইব্রিড ব্যাংক চালু করা যেতে পারে। গ্রাহকের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বিকেন্দ্রীভূত ফিন্যান্স বিকল্পের কথা ভাবা যেতে পারে। যেমন গ্রাহকদের টাকার কিছুটা অংশ ব্যাংকের মালিকানার শেয়ারে বা ভালোমানের বন্ডে বিনিয়োগ করা ইত্যাদি।
দুর্বল ব্যাংককে দ্রুততার সঙ্গে সবল করতে হবে : দ্রুত আমানত প্রত্যাহার হয়েছে, এমন ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে হবে। সেই সঙ্গে নিতে হবে আস্থা পুনর্নির্মাণের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ। এখানে একটি কৌশলগত বিষয় হতে পারে তাৎক্ষণিকভাবে তারল্য বাড়ানো। যা বাংলাদেশ ব্যাংক অনেকটাই করার চেষ্টা করেছে। এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থার মধ্যে জরুরি তহবিল আহরণ করা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সরকার-সমর্থিত তারল্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ধার নেওয়া। নতুন করে শেয়ার ও বন্ড ছাড়া, বা বেসরকারি বিনিয়োগের উৎস খুঁজতে হবে। ব্যাংকের অপ্রয়োজনীয় সম্পদ বিক্রয় করে নগদ প্রবাহকে চাঙ্গা করা, প্রয়োজনে অতি যত্নে রাখা সম্পদগুলো বিক্রয় করা যেতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে আয়ের উৎসকে আরও বিচিত্র/বহুমুখী করতে হবে, বিনিয়োগের পোর্টফোলিওগুলো, ফি-ভিত্তিক পরিষেবাগুলোর অংশীদারত্ব বাড়ানো যেতে পারে। এতে করে ব্যাংকগুলো আমানতের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করতে পারবে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ আদায় করা, অনাদায়ী অন্যান্য ঋণ সংগ্রহ এবং পুনর্গঠন করা জরুরি। ব্যাংকের আর্থিক সংকট কাটানোর জন্য এবং সেই সঙ্গে দুর্বল ব্যাংককে সবল করার জন্য নানা পদক্ষেপের মধ্যে ব্যাংক একীভূত করা অন্যতম। এক হিসেবে দেখা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে, আর্থিক সংকট, বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং এশিয়ায় হাজার হাজার ব্যাংক একীভূত হয়েছে। একমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে থেকে প্রায় দশ হাজার ব্যাংকের সংযুক্তি ঘটেছে। মাত্র দুবছর আগে ২০২৩ সালে ক্রেডিট স্যুইস-ইউবিএস ব্যাংক দুটি একীভূত হয়েছে।
লেখক: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও অর্থনীতি বিশ্লেষক
[email protected]
