পঞ্চগড়ে চায়ের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে কফি । গড়ে উঠেছে ছোট-বড় বেশ কিছু বাগান। ছায়াযুক্ত বাগানে সাথি ফসল হিসেবে এই কফি চাষ হচ্ছে। ২০২১ সালের শেষের দিকে ‘কফি ও কাজু বাদাম গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের’ আওতায় জেলার তিন উপজেলায় রোবাস্টা জাতের কফি চাষ শুরু হয়েছে। জেলার মাটি ও আবহাওয়া কফির জন্য উপযোগী হওয়ায় সুপারিসহ বিভিন্ন বাগানের ছায়াযুক্ত ফাঁকা জায়গায় গড়ে উঠছে এসব কফি বাগান।
কৃষক আব্দুল হালিম প্রধান। কৃষি বিভাগের পরামর্শে গত তিন বছর আগে সুপারি বাগানে সাথি ফসল হিসেবে রোপণ করেন কফির চারাগাছ। অল্প সময়ের মধ্যেই ফল আসে গাছগুলোতে। গত দুই বছর ধরেই হার্ভেস্ট করছেন তিনি। বাজারজাত সহজ হলে সাথি ফসল হিসেবে যেমন বাড়তি আয় হবে, তেমনি বাড়বে চাষের পরিধিও।
হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিষমুনি গ্রামের আব্দুল হালিম প্রধান জানান, দুই বছর আগে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় তার বাড়িসংলগ্ন ছায়াযুক্ত সুপারি বাগানে ১৩৫টি কফি চারা রোপণ করেন। জেলায় ৪৭ জন কৃষক কফি চাষ করেছেন। তবে অন্যদের এখনো ফল আসা শুরু হয়নি। অধিকাংশ গাছের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে লাল-বেগুনি ও সবুজ কফি ফল। পরিপক্ব ফলগুলো উত্তোলন করে ঘরে রাখা হচ্ছে। এ ফলগুলোই প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা যাবে
পানযোগ্য কফি। বাজারজাত সহজলভ্য না হওয়ায় নেয়া হয়েছে প্রক্রিয়াজাতের উদ্যোগ। কৃষি বিভাগ প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য দিয়েছেন একটি মেশিনও।
জানা গেছে, চাষিদের কফি বীজ, কারিগরি সহায়তাসহ নানা পরামর্শ দেয় কৃষি বিভাগ। চারা রোপণের দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যেই ফল আসা শুরু হয় গাছগুলোতে। এটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল। প্রতি বিঘা বাগানে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে বছরে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার কফি বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। জেলার ৪৭ জন
কৃষক ১২ দশমিক ২৬ হেক্টর জমিতে গড়ে তুলেছেন ৭৪টি কফি বাগান। কফির চাষ পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ। অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হয় না। বাড়তি খরচও নেই। যদি বাজারজাত করা যায় আর দাম ভালো পাই, আশা করি লাভের মুখ দেখতে পারব।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুন্নবী বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পাশে থেকে চারা, কীটনাশক, কারিগরি প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছে। কফির বাজার ব্যবস্থাপনা ও ফল সংরক্ষণ বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। পঞ্চগড়ের আবহাওয়া কফি চাষে অনুকূল। কৃষকরা আগ্রহী হলে লাভবান হবেন।
