প্রেস সচিব বললেন

গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কম্বাইন্ড প্যাট্রলিং হয়েছে

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৫৪ এএম

ঢাকাসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে যৌথবাহিনীর কম্বাইন্ড প্যাট্রলিং শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কোর কমিটির সভা  শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই কথা বলেন।

প্রেস সচিব বলেন, গতকাল সোমবার মিটিংটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম সিদ্ধান্তটা হচ্ছে যে পুরো ঢাকা শহরসহ যেসব জায়গায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, সেসব জায়গায় আমরা প্যাট্রল বাড়াব। এই প্যাট্রলিংটা গতকাল সন্ধ্যা  থেকে পুরো ঢাকা শহরে দেখতে পারবেন। এর জন্য যেটা করা হচ্ছে কম্বাইন্ড প্যাট্রল করা হবে। কম্বাইন্ড হচ্ছে পুলিশ,  সেনাবাহিনী, বিজিবি, নেভি এরা সবাই একসঙ্গে কম্বাইন্ড প্যাট্রল করবে। অনেকগুলো জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হবে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হবে। একইসঙ্গে ইন্টেলিজেন্স  গেদারিং আরও স্টেপআপ করা, সেটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমাদের যারা ইন্টেলিজেন্স উইং, এজেন্সি আছে তারা তাদের মতো করে গেদারিং বাড়াবে। আমরা সে অনুযায়ী অ্যাকশনে যাব।

শফিকুল আলম বলেন, সর্বশেষ যেটা হয়েছে ঢাকা খুবই যানজটপূর্ণ সিটি, সেজন্য কোথাও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির  কোনো কিছু ঘটলে সেখানে যেতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর  যেতে দেরি হয়। এজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে প্রচুর  মোটরসাইকেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুব দ্রুত  মোটরসাইকেলগুলো কেনা হবে যাতে দুইজন দ্রুত  মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে যেতে পারে। আপাতত পুলিশের জন্য ১০০ নেওয়া হচ্ছে। পরে আরও ১০০ নেওয়া হবে। অন্য বাহিনীর যারা আইন-শৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত তাদের জন্যও আরও কিছু ৫০টি/ ৫০টি করে নেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আজকে (গতকাল) গত কিছুদিনের পুরো পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। আজকের সভায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সবাই ছিলেন। এখানে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি, নেভি, কোস্টগার্ড এবং বিভিন্ন ইন্টেলিজেন্ট এজেন্সি ছিল। সবাই মিলে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত এসেছে, আমি শুধু মেজরগুলো বললাম।’

এই প্যাট্রলিংটা কি শুধু ঢাকা সিটির জন্য নাকি, সারা দেশে পরিচালনা করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঢাকা আমাদের সবার আগে, এরপর সারা দেশে আপনারা এটা  দেখবেন। আজ সন্ধ্যা থেকে আগে শুরু করি, তারপর আপনারা  দেখতে পাবেন। আগে শুরু হোক।’

নির্দিষ্ট কোনো স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে  প্রেস সচিব বলেন, ‘এ বিষয়টা নিয়ে ইন্টেলিজেন্স গেদারিং হচ্ছে, আপনারা দেখতে পাবেন।’ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার কোনো উদ্বিগ্ন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, ‘সরকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে বলেই আজকের (গতকাল) মিটিংটা হয়েছে। আজকে (গতকাল) এখানে সবাই ছিলেন, যারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করেন, তাদের সবার প্রতিনিধি ছিল। প্রতিটি সংস্থার যারা চিফ তারা প্রত্যেকেই এসেছেন। একটা হাইলেভেলের সভা হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলো থেকে কোনো অসহযোগিতা  দেখেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এ রকম কিছু দেখছি না। আমরা চাই, বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যত দ্রুত সম্ভব উন্নত করা। কারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের। আমরা এই কাজটা সুচারুরূপে করতে চাই।’

হঠাৎ করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন হলো কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে.. আমরা বলছি  তো আমরা ইন্টেলিজেন্ট গেদার করছি। আজকে তাদের প্রতিনিধিও ছিল তারা আরও ডিটেলে রিপোর্ট দেবেন। আমরা গুরুত্ব সহকারে এগুলো মনিটরিং করছি। আমরা আশা করছি আপনারা দৃশ্যমান উন্নতি খুব দ্রুত দেখতে পাবেন।

কক্সবাজার ইস্যুতে গতকাল কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কক্সবাজারে এসপি ও সিকিউরিটি এজেন্সি আছে তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন চাইছি, তারা আমাদেরকে দিলে আপনারা জানতে পারবেন।’

ডিসেম্বর বা পরের বছরের মার্চে নির্বাচন : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলতি বছর ডিসেম্বরে কিংবা ২০২৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য হলো সব সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ওপর। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো কম সংস্কার চাইলে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন। আর বেশি সংস্কার চাইলে সময় কিছুটা পেছাবে, যেটা প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন।

প্রেস সচিব বলেন, ‘এপ্রিল থেকে কালবৈশাখি শুরু হয়। আর জুনের পর থেকে আবার শুরু হয় বর্ষা। ওই সময় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করার উপযুক্ত পরিবেশ নয়। সুতরাং আমরা ধারণা করছি আগামী ডিসেম্বরে অথবা পরের বছর মার্চের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।’

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার অগ্রগতির বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম বৈঠকের পর তাদের চাওয়া অনুযায়ী কমিশনগুলো সংস্কার প্রতিবেদনের কার্ড কপি সব দলকে পাঠিয়েছে। এখন রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মতামত জানাবে।

গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, সরকারি সব অফিসে ই-ফাইলিং করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এখন থেকে যেন সরাসরি ফাইল না দিতে বলা হয়েছে। দ্রুত ই-ফাইলিং করার সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সব প্রকল্পে তৃতীয়পক্ষের লোকজন দিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে।

প্রেস সচিব বলেন, এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের জানিয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় আফ্রিকার দেশ এস্তোনিয়ায় করাপশনমুক্ত করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত