ত্রিপুরাকে বাংলাদেশের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে ভারতের গোমতী নদীতে ড্রেজিং শুরু হয়েছে। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন পথ খোলার উদ্দেশ্যে এ প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছিলেন রাজ্যটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। প্রকল্পটির বিষয়ে মাতাবাড়ী বিধানসভার বিধায়ক অভিষেক দেব রায় বলেন, এ প্রকল্প বিশ্বের অভ্যন্তরীণ নৌপথ সংযোগের মানচিত্রে ত্রিপুরাকে যুক্ত করবে। রাজ্যটি প্রথমে বাংলাদেশ এবং পরে কলকাতার সঙ্গে নৌপথে যুক্ত হবে। সে লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ নৌপথ পরিবহন উন্নয়নে অবকাঠামো নির্মাণ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।
এক মাস আগে গোমতী নদীতে ড্রেজিং শুরু হয়েছে। বর্তমানে মহারানী এলাকায় ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। পরে সিপাহিজলা জেলার সোনামুড়া পর্যন্ত ড্রেজিংয়ের কাজ সম্প্রসারিত হবে। ওই এলাকা দিয়েই সীমান্তবর্তী নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অভিষেক দেব জানান, ৫৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ড্রেজিং প্রকল্পের জন্য ১৯ দশমিক ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটির পুরো কাজ সম্পন্ন হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন ত্রিপুরার এ বিধায়ক। নদী রুটটি বাংলাদেশে দাউদকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বলে জানান অভিষেক দেব রায়।
এ নদী রুটটি ২০২০ সালে ইন্দো-বাংলাদেশ প্রটোকল রুট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ড্রেজিং শেষ হলে, ছোট জাহাজগুলো ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশ এবং কলকাতার মধ্যে চলাচল করতে পারবে। তাতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য যেমন সহজ হয়ে আসবে, তেমনি আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে পরিবহন খরচও অনেকটাই কমে যাবে। এতে সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত লাভবান হবে বলে মন্তব্য করেন অভিষেক। পাশাপাশি এ নৌরুট নিয়ে দেশটির বিরোধীদের রাজনীতিবিদদের সমালোচনাও করেছেন অভিষেক দেব রায়। বিরোধীরা এ প্রকল্পটিকে প্রথমে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছিলেন। তাদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, যখন এটি বাস্তবায়িত হবে, তখন তাদের মুখ দেখতে চাই। এদিকে গোমতী নদীতে ড্রেজিং সম্পূর্ণ হলে বন্যা মোকাবিলা এবং সেচ ব্যবস্থায় যথেষ্ট উপকার হবে বলে আশাবাদী ত্রিপুরা সরকার।
