সাতক্ষীরার শুঁটকি সুনাম ছড়াচ্ছে

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৫, ১২:১৫ এএম

শুঁটকি মাছের কদর বেড়েই চলেছে সাতক্ষীরায়। সকাল থেকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত চলে শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ। অনেকেই আগ্রহী হয়ে এই পেশায় জড়াচ্ছেন। লবণ ছাড়া অন্য কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় না এখানকার তৈরিকৃত শুঁটকিতে। তাই চাহিদা বেশি।

জেলার ত্রিশমাইল ও বিনেরপোতার মাছের আড়তে দেশীয় ছোট-বড় মাছ বিক্রি হয়। দিন শেষে যেসব মাছ বিক্রি হয় না। সেসব অবিক্রীত মাছই উদ্যোক্তারা সংগ্রহ করে নিয়ে শুঁটকি তৈরি করেন। দেখা গেছে, সাতক্ষীরা-খুলনা সড়কের ত্রিশমাইল ও বিনেরপোতা সড়কের দুই পাশে কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শুঁটকি তৈরির শ্রমিকরা।

জেলার তালা উপজেলার ত্রিশমাইল এলাকায় শুঁটকি খামার মালিক রমেশ চন্দ্র খাঁ জানান, প্রতি মাসে ৪ হাজার কেজির মতো শুঁটকি বানিয়ে থাকি। বিনেরপোতায় আরও একটি খামারে স্থানীয়ভাবে কম দামের ছোট তেলাপিয়া দিয়ে শুঁটকি তৈরি করেন। এসব শুঁটকি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পোলট্রি ও মাছের ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়। সৈয়দপুরের বৃহৎ শুঁটকি আড়তের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন জানান, প্রতি মৌসুমে শুঁটকি মাছ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে থাকেন। প্রতিবেশী দেশগুলোতে পুঁটিমাছের শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিএম সেলিম জানান, মিঠাপানির শুঁটকি মাছ উৎপাদনের জন্য খুবই সম্ভাবনাময় জেলা সাতক্ষীরা। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় বছরে প্রায় এক লাখ টন মাছ উৎপাদন হয়। সাধারণ পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হলে শুঁটকির গুণগতমান আরও বাড়বে। এ ক্ষেত্রে মেকানিক্যাল ড্রায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। মাছের ঘেরে ধান চাষ করার প্রাক্কালে খুব স্বল্পমূল্যে চাষিরা ঘেরের মাছ বিক্রি করে দেন। সে সময় ওই মাছ সংগ্রহ করে শুঁটকি তৈরি করতে পারলে ব্যাপক লাভবান হতে পারেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তাই আমরা শুঁটকি উৎপাদন বৃদ্ধি ও এর গুণগতমান উন্নয়নে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত