এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে বেনফিকা ও বার্সেলোনার ম্যাচে দারুণ লড়াই হয়। সেই ম্যাচে হয়েছিল ৯ গোল। তাই শেষ ষোলোতে বেনফিকার মাঠে বার্সেলোনার জেতা যে কঠিন হবে সেই ধারণা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ১০ জনের বার্সেলোনা ম্যাচটা জিতেছে ১-০ গোলে। ৬১ মিনিটে গোলটি করেন রাফিনহা। তার আগে ম্যাচের ২২ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বার্সেলোনা ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সি।
শুরু থেকেই জমে ওঠে ম্যাচ। তবে পাভলিদিসকে ফাউল করে কুবার্সি লাল কার্ড দেখার পর প্রতিপক্ষের একজন কম থাকার সুযোগে আক্রমণ বেশি করে বেনফিকা। ম্যাচে ২৬ শট নিয়ে ৮টি লক্ষ্যে রাখে তারা। বার্সার ১০ শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সেলোনার হয়ে ৬৫ ম্যাচের ক্যারিয়ারের এবারই প্রথম লাল কার্ড দেখলেন কুবার্সি। চ্যাম্পিয়নস লিগে তার (১৮ বছর ৪২ দিন) চেয়ে কম বয়সে লাল কার্ড দেখেছেন শুধু সেলেস্তিন বাবাইয়ারো (১৬ বছর ৮৬ দিন)।
রক্ষণ মজবুত করতে ২৮ মিনিটে ওলমোর জায়গায় আরাউহোকে নামান ফ্লিক। ৫১ মিনিটে বার্সেলোনার ত্রাতা পোলিশ গোলকিপার সেজনি। ফেডরিক অরন্সের শট ঝাঁপিয়ে কোনোমতে ফেরান। ফিরতি বলে শট নিতে পাভলিদিসকে ছুটে আসতে দেখে পা বাড়িয়ে কোনোমতে নাগালের বাইরে পাঠান। এর আগেও বেশ কয়েকটি শট রুখে দেন এই গোলকিপার। ৬১ মিনিটে স্বাগতিকদের অর্ধে আন্তোনিও সিলভার একটি দুর্বল ব্যাক পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি বক্সের বাইরে থেকে দারুণ শটে বল জালে পাঠান রাফিনহা। ছন্দে থাকা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের চলতি আসরে এটি নবম গোল।
৮২ মিনিটে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। ডি বক্সে আন্দ্রেয়া বেলোত্তিকে ফাউল করে বসেছিলেন সেজনি। তবে আক্রমণের শুরুতে ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড অফসাইডে থাকায় ভিএআরের সহায়তায় সিদ্ধান্ত পাল্টান রেফারি।
ম্যাচ শেষে ফ্লিক বলেন, ‘অসাধারণ এক জয়। শুধু জয় নয়, যেভাবে এই জয় এসেছে সেটা নিয়েও আমরা রোমাঞ্চিত। আমরা খুব ভালোভাবে রক্ষণ সামলেছি। দল হিসেবে রক্ষণ সামাল দিয়েছি, এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দলের সবার সম্মিলিত প্রয়াস ছিল এটা। প্রথমার্ধের শুরুর দিকে একজন কমে গেলেও আমরা ম্যাচ ভালোভাবে শেষ করেছি। এটা সহজ ছিল না। আমাদের ফিরতি লেগে খেলতে হবে। বেনফিকা ভালো দল, ওদের ওপর আমাদের নজর রাখতে হবে।’
গোলকিপার সেজনির প্রশংসাও করেন ফ্লিক। ম্যাচ শেষে সেজনি বলেন, ‘আমার সেরাটা এখনো আসার বাকি। ২৫তম মিনিটে যে সেভটা করেছি, সেটা আমারও ভালো লেগেছে। এক মাস আগে এখানে খেলে আমরা অনেক গোল হজম করেছিলাম, তাই জাল অক্ষত রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পেদ্রি সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছে, তবে আমার মনে হয় আমিও অর্ধেকটার দাবিদার।’
কেইনের জোড়া গোলে বায়ার্নের জয় : জার্মান ডার্বিতে প্রথম লেগে জয় পেল বায়ার্ন মিউনিউখ। নিজেদের ঘরের মাঠে বাভারিয়ানরা ৩-০ গোলে হারিয়েছে বায়ার লেভারকুজেনকে। জোড়া গোল করেছেন হ্যারি কেইন, যার একটি পেনাল্টি থেকে। অন্য গোলটি করেন জামাল মুসিয়ালা। ৬২ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন লেভারকুজেনের নর্দি মুকেলেলে।
ম্যাচ শেষে জাবি আলোনসো বলেন, ‘দ্বিতীয় গোল, লাল কার্ড আর পেনাল্টি সবই গেছে বায়ার্নের পক্ষে। আর সে কারণেই আমরা এই ফল পেয়েছি। ভুল আর খুঁটিনাটি গুরুত্বপূর্ণ, তবে এই সন্ধ্যা (বুধবার) আমাদের জন্য ছিল তিক্ত। এক গোল কম বা বেশি অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।’ জয় পেলেও দ্বিতীয় লেগ নিয়ে সতর্ক থাকছেন বায়ার্নের কোচ ভিনসেন্ট কম্পানি। ‘এটা শুধুই প্রথম (লেগ) অংশ। এখনো আমাদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে হবে। পুরো মনোযোগ ধরে রাখছি যেন পরের ম্যাচেও আমরা ভালো খেলতে পারি। আমরা শান্ত আছি, সামনে যা আছে তার জন্য আমরা প্রস্তুত।’
খেলল পিএসজি জিতল লিভারপুল : চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোর অন্যতম বিগ ম্যাচ পিএসজি-লিভারপুল। প্রথম লেগে পার্ক দ্য প্রিন্সেস (১-০) থেকে জয় নিয়ে ফিরেছে লিভারপুল। তবে ম্যাচ জিতেও দলের পারফরম্যান্সে খুশি নন লিভারপুল কোচ আর্না সøট। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে গোল করেন হার্ভে এলিয়ট। তবে ম্যাচে সবদিক দিয়ে পিছিয়ে ছিল লিভারপুল। মাত্র ৩০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলমুখে দুটি শট নিতে পারে তারা। যার একটি ছিল লক্ষ্যে, তাতেই হয় গোল। আর পিএসজি গোলের উদ্দেশে ২৭ শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখে। তবু গোল পায়নি। তাই বলাই যায় খেলল পিএসজি জিতল লিভারপুল।
সøট বলেন, ‘যদি ফলের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন, আমরা ইতিবাচক ফল নিয়ে এসেছি। যদি পারফরম্যান্সের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন দুটি ব্যাপার ভিন্ন রকমের হয়েছে। আমি মনে করি, আগামী সপ্তাহে আমরা যে ম্যাচ খেলব তার জন্য পিএসজি এখানে থেকে ইতিবাচক অনেক কিছু নিতে পারে।’
ইন্তারের জয় : ডাচ ক্লাব ফিয়েনুর্দের বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল ইন্তার মিলান। প্রতিপক্ষের মাঠে সব কিছুতে এগিয়ে থেকে ইন্তার ২-০ গোলে হারিয়েছে ফিয়েনুর্দকে। ইন্তারের হয়ে গোল দুটি করেন মার্কাস থুরাম ও লাউতারো মার্তিনেজ।
