রোহিঙ্গা খাদ্য সহায়তায় ৮১ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৫, ০৬:২০ এএম

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি সহায়তা কার্যক্রম তহবিলে তীব্র ঘাটতির বিষয়ে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি-ডব্লিউএফপি। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ডব্লিউএফপি জানায়, তহবিল সংকটের কারণে রোহিঙ্গাদের মাসিক রেশন কমিয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনা হতে পারে। এতে বাংলাদেশে অবস্থানরত ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার খাদ্য সহায়তা হুমকির মুখে পড়বে। জরুরিভাবে নতুন করে তহবিল না পেলে, রোহিঙ্গাদের জন্য মাসিক বরাদ্দ জনপ্রতি সাড়ে ১২ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ৬ ডলার করতে হবে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা ঠিক রাখতে আগামী এপ্রিল মাসের জন্য জরুরিভাবে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে ডব্লিউএফপি। বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর ডম স্কাল্পেলি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বিশ্বের বৃহত্তম ও দীর্ঘস্থায়ী সংকটগুলোর একটি। বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গারা পুরোপুরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। খাদ্য সহায়তা কোনোভাবে কমে গেলে তাদের আরও খাদ্য ঘাটতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হবে এবং বেঁচে থাকার জন্য তারা বেপরোয়া হয়ে উঠতে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডব্লিউএফপি থেকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে আগামী ১ এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য সহায়তা বাবদ বরাদ্দ কমানোর কথা জানানো হয়। গত জানুয়ারি মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েই বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী চলমান সহায়তা প্রকল্প অনুদান বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় এই পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম দাতা দেশ। দেশটি তাদের এই বৈদেশিক সহায়তা অধিকাংশ খরচ করত যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি-এর মাধ্যমে। তবে এই সংস্থাটির ওপর ট্রাম্পের খড়গ নামায় বিশ্বব্যাপী অনেকগুলো মানবিক প্রকল্পের ভবিষৎ হুমকির মুখে পড়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মিয়ানমারে সংঘাতের কারণে নতুন করে আরও প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ক্রমাগত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বৃদ্ধি তাদের জন্য বরাদ্দ সহায়তার ওপর চাপ তৈরি করছে। ডব্লিউএফপি ইতিমধ্যে সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। ডম স্কাল্পেলি বলেন, এখন আগের চেয়ে আরও বেশি করে আমাদের রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। এই পরিবারগুলোর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাদের বেঁচে থাকা ও হতাশার মধ্যে পার্থক্য করে দেয় ডব্লিউএফপির খাদ্য সহায়তা। এই সংকট আরও বাড়তে না দেওয়ার জন্য জরুরিভাবে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রয়োজন।

২০২৩ সালে তীব্র অর্থায়ন সংকটের কারণে ডব্লিউএফপি রোহিঙ্গাদের মাসিক রেশন ১২ ডলার থেকে কমিয়ে ৮ ডলারে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়। এর ফলে খাদ্য গ্রহণের মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যায় এবং ২০১৭ সালের পর শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার ১৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। পরে নতুন অর্থায়ন পাওয়ার পর রেশন আবার কিছুটা বাড়ানো হয়। ডব্লিউএফপি বলছে, বিশ্ব জুড়ে শরণার্থীদের জন্য সহায়তা প্রায়ই কমানো হয়। তহবিলের ঘাটতি ও চাহিদা বৃদ্ধির ফলে রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য অনেক সম্প্রদায়ের বেঁচে থাকার জন্য সম্পদ খুবই অপ্রতুল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত