গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি নির্ধারিত হবে জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, বিদ্যুৎ বিতরণের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা হবে। তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যুতের অপব্যবহার রোধ করতে হবে। অবৈধ সংযোগ বন্ধ করতে হবে। এছাড়া এয়ার কন্ডিশনার ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখা উচিত, যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহায়ক হবে।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ আগ্রাবাদের আবিদার পাড়ার ঠান্ডা মিয়া ব্রিজ, ডাইল ব্রিজ ও নয় নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন মহেশ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন।
আগামী মে মাসের মধ্যে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি শেষ না হলেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে এই সমস্যা সমাধানে কাজ করা হবে।
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্বের প্রকল্পগুলোতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন এসব বিষয় দেখবে। আমাদের কাজ হচ্ছে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য সংস্থাকে সহযোগিতা করা।
মহেশ খালসহ চট্টগ্রামের খাল খনন প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরেও ফলাফল পাওয়া যায়নি। তাই প্রথমে দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে। সফলতা প্রমাণ হলে প্রয়োজনীয় অর্থায়নে কোনো সমস্যা হবে না।
অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের স্বার্থে যেখানে নালা আছে, সেখানে যদি কেউ বিল্ডিং নির্মাণ করে থাকে, তা অপসারণ করতে হবে। আমরা জনগণের স্বার্থে কাজ করছি এবং করব। চট্টগ্রামের খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের কার্যক্রম চলছে। এছাড়া ১৬০০ কিলোমিটার নালার পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এটি চলমান থাকবে। আমরা আশা করছি, সামনের বছর অর্থাৎ মার্চ থেকে জুনের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ সম্পূর্ণ হবে। এ বছর যাতে জলাবদ্ধতা কমে আসে, সে লক্ষ্যে খাল ও নালা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ সময় বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিডিএ’র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সিডিএ’র খাল খনন প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে উপদেষ্টা বির্জা খাল, চট্টগ্রাম মেডিকেলের পূর্ব গেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পরিদর্শন করেন।
