বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ১৪২টি দেশে আদর্শ এবং হ্রাসকৃত বিভিন্ন হারে ভ্যাটব্যাবস্থা চালু রয়েছে। এসব দেশের সরকারের জন্য ভ্যাটের পরিধি বাড়ানো, যথাযথ করহার প্রয়োগ এবং ভ্যাট আদায় পদ্ধতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর ফলে সরকার রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে যেকোনো সময় ভ্যাটের হার বাড়ানো, কমানো, ভ্যাট ফাঁকি রোধ, ভ্যাট আদায় পদ্ধতির সংস্কারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। আসলে ভ্যাট এমন একটি পরোক্ষ কর ব্যবস্থা, যেখানে ভোক্তা পণ্যের মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট পরিশোধ করেন। ফলে ভোক্তা প্রদত্ত ভ্যাট আদায় এবং ভ্যাট ফাঁকি রোধে সরকার সর্বদা সচেষ্ট। বিশেষত খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট ফাঁকি রোধ করা সম্ভব হলে, দেশের রাজস্ব সন্দেহাতীতভাবে বৃদ্ধি পাবে। আমাদের বিশ্বাস, ভ্যাট আদায় পদ্ধতি সহজ করার লক্ষ্যে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। একটা ছোট্ট উদাহরণ দিচ্ছি। ধরুন, জামান সাহেব ১ কেজি মিষ্টি কিনে ৪৫ টাকা ভ্যাটসহ মোট ৫০০ টাকা পরিশোধ করলেন। দোকানি তাকে কোনো ভ্যাট চালান দিলেন না, জামান সাহেবও চাইলেন না। তাহলে প্রশ্ন হলো, ৫০০ টাকার মধ্যে পরিশোধিত এই ৪৫ টাকা ভ্যাট কি আদৌ সরকারি কোষাগারে যাচ্ছে, নাকি ভ্যাট ফাঁকি হচ্ছে?
ভ্যাট ফাঁকি রোধে NBR বিগত বছরগুলোতে যথাসাধ্য EFD/SDC/POS মেশিন স্থাপন করেছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যথাযথ ভ্যাট আদায় হচ্ছে বলা যায়। এর বাইরে, সাধারণত দেখা যায়, না চাইলে দোকানি কোনো প্রকার ভ্যাট চালান দেন না। ক্রেতা রসিদ চাইলে, তারা সাদা কাগজ বা মেমোতে লিখে দেন, যা ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করে না। ভ্যাট আইন অনুযায়ী, দোকানির নীল রঙের চালান মূসক ৬.৩ দেওয়ার কথা, যা অনেক দোকানি চেনেন না। চিনলেও নিজে থেকে দিতে চান না, এমনকি EFD/SDC/POS মেশিন থাকলে ও নানা অজুহাতে এড়িয়ে যান। অবশ্য এর ব্যতিক্রমও আছে, তবে সংখ্যায় তা খুব কম। প্রশ্ন হলো, ভোক্তা স্বেচ্ছায় ভ্যাট চালান চাইবেন কেন? এটা কি কেবলই তার নৈতিক দায়িত্ব? এর বাইরে এমন কিছু কি আছে, যা তাকে প্রভাবিত, প্রলুব্ধ বা বাধ্য করবে ভ্যাট চালান চেয়ে নিতে? এক্ষেত্রে NBR-এর একটি মাসিক লটারি কার্যক্রম চালু রয়েছে, যা বেশ প্রশংসনীয়। তবে এর প্রচার-প্রচারণা যথেষ্ট নয় এবং যেহেতু এটি একটি লটারি কার্যক্রম, তাই পুরস্কারগুলো এক রকম অনিশ্চিত বলা যায়। ফলে জামান সাহেবের মতো ভোক্তার দৃষ্টিতে ভ্যাট চালান নেওয়া, না নেওয়া প্রায় সমান কথা। কারণ, উভয় ক্ষেত্রেই তার খরচ হয় ৫০০ টাকা। ভ্যাট চালান না নিলে তার কোনো ক্ষতি নেই, কোনো জবাবদিহিতা নেই। বরং নিতে গেলে সময় নষ্ট, দোকানির সঙ্গে অযথা বাগবিতন্ডার আশঙ্কা রয়েছে। জামান সাহেব তাই ভ্যাট চালান না নিয়ে, মূল্যবান সময় বাঁচালেন এবং ঝামেলা এড়ালেন। ফলে বিক্রেতা তার ভ্যাট রিটার্নে বিক্রয়তথ্য গোপন করার সুযোগ পেয়ে গেলেন। এক কেজি মিষ্টি বিক্রিতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হলো ৪৫ টাকা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিক্রেতারা সাধারণত গড়ে মোট বিক্রয়ের ২০%-৩০% প্রতিষ্ঠানের মাসিক রিটার্নে প্রদর্শন করেন। সে হিসেবে সারাদেশে যদি খুচরা পর্যায়ে দৈনিক গড়ে ১০,০০০ কেজি মিষ্টি বিক্রয় হয়, তাহলে সারা বছরে সরকারের ভ্যাট আদায় হওয়ার কথা ১৬.৫৯ কোটি টাকা। কিন্তু ৭০% বিক্রয়তথ্য গোপন বিবেচনায় ভ্যাট ফাঁকি হচ্ছে ১১.৬১ কোটি। এই কারণে খুচরা পর্যায়ে সিংহভাগ ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র। এই ক্ষতিকে ভোক্তা আমলে নেন না। কারণ লটারির অনিশ্চিত পুরস্কারের প্রলোভন ছাড়া ভ্যাট চালানের মাধ্যমে তিনি কোনো আর্থিক সুবিধা, সনদপত্র, কর সুবিধা বা বীমা সুবিধাসহ অন্য কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না। যেটি তাকে ভ্যাট চালান সংগ্রহে উৎসাহিত করবে বা বাধ্য করবে। কিন্তু উপায় রয়েছে। অতএব, শতভাগ ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যে ভোক্তার জন্য নৈতিকতা বা অনিশ্চিত সুবিধার পরিবর্তে আর্থিক এবং সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘নিশ্চিত’ সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান রাখা অপরিহার্য। সব বিষয় পর্যালোচনা করে, ভ্যাট ফাঁকি রোধে সরকার কিছু পদক্ষেপ বিবেচনায় নিতে পারে। যেমন- লটারির পাশাপাশি সর্বক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট সিস্টেমে ভোক্তার জন্য ‘ক্যাশ ব্যাক’ সুবিধা। এই পদ্ধতিতে ক্রেতা পণ্যের মূল্য স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমে পেমেন্ট করার সঙ্গে সঙ্গে তার অ্যাকাউন্টে ক্যাশ ব্যাক পেয়ে যাবেন। এই ক্যাশ ব্যাক সুবিধাটি নিশ্চিত করতে ক্রেতা নিজ থেকে ভ্যাট চালান চেয়ে নেবেন, ফলে বিক্রেতা তার বিক্রয় তথ্য গোপন করার সুযোগ পাবেন না এবং বিক্রেতার অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভ্যাট আদায় নিশ্চিত হবে। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে ‘আগাম কর’ পদ্ধতি। ধরুন প্রাথমিকভাবে উৎপাদনকারী, পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ী এই তিনটি শ্রেণিকে বিবেচনায় নেওয়া হলো। এক্ষেত্রে উৎপাদনকারী বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিষ্ঠানের ‘দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা’, ‘দৈনিক গড় উৎপাদন’ এবং ‘প্রাক্কলিত দৈনিক বিক্রয়’ সম্পর্কিত একটি ঘোষণা দিবেন ঘইজ কর্র্তৃক নির্ধারিত ফরমে। যেমনটি তারা মূল্য ঘোষণা দিয়ে থাকেন ‘মূসক ৪.৩’ ফরমে। পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীরাও একইভাবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ‘প্রাক্কলিত দৈনিক বিক্রয়’ সম্পর্কিত ঘোষণা দেবেন। উৎপাদনকারী পূর্বঘোষিত প্রাক্কলিত বিক্রয়ের ওপর পাইকারি ব্যবসায়ীর জন্য প্রযোজ্য হারে ‘আগাম কর’ পরিশোধ করবেন বিক্রির আগেই। এরপর ভ্যাট চালানে তিনি উৎপাদন পর্যায়ের জন্য প্রযোজ্য ভ্যাট প্রদর্শন করবেন। একই ভ্যাট চালানে তিনি পাইকারি পর্যায়ের মূল্য সংযোজন হিসাব করে (পাইকারির দেওয়া মূল্য ঘোষণা অনুযায়ী) প্রযোজ্য ভ্যাট বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে প্রদর্শন করবেন। অতঃপর পাইকারির কাছ থেকে বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে উৎপাদন পর্যায়ের ভ্যাট এবং পাইকারি পর্যায়ের ভ্যাট দুটিই আদায় করবেন। আদায়কৃত পাইকারি পর্যায়ের ভ্যাট হতে তিনি পূর্বপরিশোধিত ‘আগাম কর’ সমন্বয় করে নেবেন এবং অবশিষ্ট থাকলে তা ট্রেজারি করবেন। একই চালানে তিনি আদায়কৃত উৎপাদন পর্যায়ের ভ্যাট হতে পূর্বপরিশোধিত উপকরণ কর (উপকরণ ক্রয়ের সময় পরিশোধিত) পূর্বের মতোই রেয়াত (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) নেবেন এবং অবশিষ্ট অংশ ট্রেজারি করবেন। এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদনকারীর দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি এবং গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উৎপাদন পর্যায়ে পরিশোধিত উপকরণ কর রেয়াত নেবেন এবং অবশিষ্ট অংশ ট্রেজারি করবেন। তিনি নিজের প্রাক্কলিত বিক্রয়ের ওপর পাইকারির জন্য প্রযোজ্য হারে ‘আগাম কর’ পরিশোধ করবেন। বিক্রয়ের পরে পাইকারির মোট প্রাক্কলিত বিক্রয়মূল্যের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট ভ্যাট চালানে উল্লেখপূর্বক পাইকারির আগাম কর হিসেবে আদায় করবেন এবং তা থেকে নিজের পূর্বপরিশোধিত আগাম কর সমন্বয় করে অবশিষ্ট অংশ ট্রেজারি করবেন। পাইকারিকে তিনি ভ্যাট পরিশোধের প্রমাণস্বরূপ ভ্যাট চালান, ‘আগাম কর এবং অবশিষ্ট কর’ পরিশোধের ট্রেজারি চালানের কপি সরবরাহ করবেন, যা পাইকারি তার ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় সংযুক্ত করবেন। পাইকারি ব্যবসায়ী যেহেতু উৎপাদনকারী হতে পণ্য ক্রয়ের সময়ই ‘আগাম কর’ পরিশোধ করেছেন, সুতরাং তিনি তা দ্রুত সমন্বয় করতে চাইবেন। তিনি ভ্যাট চালান ইস্যু করে খুচরা বিক্রেতার ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট ‘আগাম কর’ হিসেবে আদায় করে তার নিজের পূর্বপরিশোধিত ‘আগাম কর’ সমন্বয় করে অবশি’ থাকলে তা ট্রেজারি করবেন। খুচরা বিক্রেতাকে তিনি ভ্যাট পরিশোধের প্রমাণস্বরূপ ভ্যাট চালান, ‘আগাম কর এবং অবশিষ্ট কর’ পরিশোধের ট্রেজারি চালানের কপি সরবরাহ করবেন, যা খুচরা বিক্রেতা তার ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় সংযুক্ত করবেন।
সব শেষে খুচরা বিক্রেতা যেহেতু পাইকারির কাছ থেকে ক্রয়ের সময়ই ‘আগাম কর’ পরিশোধ করেছেন, সুতরাং তিনিও তা দ্রুত সমন্বয় করতে চাইবেন। তিনি বিক্রয়ের সময় ভ্যাট চালান ইস্যু করে ভোক্তা পর্যায়ের ভ্যাট আদায় করে তার পূর্বপরিশোধিত ‘আগাম কর’ সমন্বয় করবেন। ভোক্তা যেহেতু পণ্যটি ভোগ করার উদ্দেশ্যে কিনেছেন এবং এখানে কোনো মূল্য সংযোজন হবে না ফলে নতুন কোনো প্রদেয় ভ্যাট সৃষ্টি হবে না। খুচরা বিক্রেতা ভোক্তাকে নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট চালান সরবরাহ করবেন। এক্ষেত্রে অবিক্রীত পণ্যের ওপর পরিশোধিত ভ্যাট পণ্য ‘ফেরত’ বা ‘ব্যবহার অনুপযোগী’ হিসেবে ভ্যাট অফিস কর্র্তৃক যেকোনো সহজ পদ্ধতিতে ‘প্রত্যয়ন’ সাপেক্ষে ভ্যাট রিটার্নে সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে। একইভাবে উৎপাদনকারী, পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীর প্রাক্কলিত বা ঘোষিত বিক্রয়ের চেয়ে প্রকৃত বিক্রয় কম বেশি হলে তা ভ্যাট রিটার্নে সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে। এই পদ্ধতিতে খুচরা ব্যবসায়ী আগাম কর সমন্বয়ের খাতিরে ভ্যাটসহ বিক্রয় তথ্য সঠিকভাবে ভ্যাট চালানে প্রদর্শন করতে বাধ্য হবেন, ফলে ভ্যাট ফাঁকির কোনো সুযোগ থাকবে না। উপরোক্ত ধারণাটি একটি উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাক। ধরুন, মিষ্টি উৎপাদনকারী, পাইকারি এবং খুচরা বিক্রেতা মূল্য ঘোষণা দিয়েছেন যথাক্রমে ৩০%, ৩৫% এবং ৪০%। তাদের বিক্রয়ের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট যথাক্রমে ১৫%, ৭.৫% এবং ৭.৫%। উৎপাদনকারী আরও ঘোষণা দিয়েছেন তার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ২০০ কেজি, গড় উৎপাদন ১২০ কেজি এবং প্রাক্কলিত বিক্রয় ১০০ কেজি। প্রতি কেজিতে ১১০ টাকা করে তার মোট খরচ ১১,০০০ টাকা এবং ৩০% মূল্য সংযোজন ৩৩০০ টাকাসহ বিক্রয়মূল্য ১৪,৩০০ টাকা। এর ওপর তিনি আগাম কর পরিশোধ করবেন পাইকারির পর্যায়ের ৭.৫% হারে ১০৭৩ টাকা। বিক্রয়কালে তিনি ভ্যাট চালানে ১৪,৩০০ টাকা বিক্রয়ের উপর ১৫% ভ্যাট ২১৪৫ টাকা দেখিয়ে তা থেকে উপকরণ কর ১৯৮০ টাকা রেয়াত নিয়ে অবশিষ্ট ১৬৫ টাকা ট্রেজারি করবেন। অতঃপর তিনি তার পরিশোধিত আগাম কর ১০৭৩ টাকা সমন্বয়ের লক্ষ্যে পাইকারির বিক্রয়ের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট হিসাব করবেন। পাইকারির ক্রয়মূল্য ১৪,৩০০ টাকার ওপর ঘোষিত ৩৫% হারে ৫০০৫ টাকা মূল্য সংযোজিত হয়ে বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ১৯,৩০৫ টাকা। এর ওপর পাইকারি পর্যায়ের ৭.৫% ভ্যাট ১৪৪৮ টাকা ভ্যাট চালানে প্রদর্শন করবেন।
ফলে উৎপাদনকারী ভ্যাট চালানে বিক্রয়মূল্য ১৪,৩০০ টাকা, ১৫% ভ্যাট ২১৪৫ টাকা এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ের ৭.৫% ভ্যাট ১৪৪৮ টাকাসহ মোট ১৭,৮৯৩ টাকা প্রদর্শন করে তা পাইকারি হতে আদায় করবেন। এরপর রেয়াত নিয়ে অবশিষ্ট ১৬৫ টাকা এবং পাইকারি পর্যায়ের আদায়কৃত ভ্যাট ১৪৪৮ টাকা হতে আগাম কর ১০৭৩ টাকা সমন্বয়পূর্বক অবশিষ্ট ৩৭৫ টাকাসহ মোট ৫৪০ টাকা ট্রেজারি করবেন। পাইকারি পর্যায়ে, পাইকারি তার বিক্রয়মূল্য ১৯,৩০৫ টাকার ওপর খুচরা পর্যায়ের ভ্যাটসহ আদায় করবেন। অর্থাৎ খুচরা ব্যবসায়ীর পূর্বঘোষিত ৪০% হারে ৭৭২২ টাকা মূল্য সংযোজন করে বিক্রয়মূল্য হয় ২৭,০২৭ টাকা। এর উপর ৭.৫% ভ্যাট ২০২৭ টাকা প্রদর্শনপূর্বক মোট ২১,৩৩২ টাকা আদায় করবেন। আদায়কৃত ভ্যাট ২০২৭ টাকা হতে পরিশোধিত আগাম কর ১৪৪৮ টাকা সমন্বয়পূর্বক অবশিষ্ট ৫৭৯ টাকা ট্রেজারি করবেন। খুচরা ব্যবসায়ী পর্যায়ে, ক্রয়মূল্য ১৯,৩০৫ টাকায় ৪০% মূল্য সংযোজন ৭৭২২ টাকাসহ ভোক্তার নিকট বিক্রয়মূল্য ২৭,০২৭ টাকা, যার ওপর ৭.৫% ভ্যাট ২০২৭ টাকা। যেহেতু খুচরা ব্যবসায়ী ইতিপূর্বেই আগাম কর ২০২৭ টাকা পরিশোধ করেছেন, তাই পুরো টাকা সমন্বয়ের পর কোনো প্রদেয় কর সৃষ্টি হবে না। তিনি শুধু ভোক্তাকে ভ্যাট চালান সরবরাহ করবেন এবং সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করবেন। বর্তমানে ওষুধের ক্ষেত্রে উৎপাদন পর্যায়ে ১৫% ভ্যাটের সঙ্গে খুচরা পর্যায়ের প্রযোজ্য ২.৪% ভ্যাট একই সঙ্গে আদায় হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ওষুধ শিল্পে খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট ফাঁকি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। সুতরাং উপরোক্ত পদ্ধতিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে, জাতীয় রাজস্ব আদায়ে যথেষ্ট ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লেখক: ভ্যাট প্র্যাকটিশনার ও লেখক
