অনিন্দ্য শরীফের কবিতা

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৫, ০৬:১৯ এএম

তোমার আভাস

 

তোমার গায়ে গুল্মলতা

তোমার হাতে কুমড়ো ফুল

তোমার মাথায় ঘুরছে ছাতা

বৃষ্টি ভেবে করছি ভুল

 

তোমার গায়ে কলমি-দোলন

মুখে কারও প্রেমের ছায়া

তোমার মধ্যে হচ্ছে লালন

আচেনা এক গোপন মায়া

 

তোমার মুখে স্নিগ্ধ অরুণ

তোমার চোখে শান্ত চাঁদ

তোমার ছোঁয়া পাবার দরুন

লাজুক লতার ঝরছে লাজ

 

তোমার বায়ে দুলছে বাতাস

ছায়ার তাপে গলছে ঢেউ

জাগলে মনে তোমার আভাস

আমার মতোই ঘামবে কেউ

প্রেম মোমপাখি

 

আকাশে বিষন্ন মেঘ, মেঘ ভেজা জল

জলের অণুতে নাচে হিমেল অনল

বাতাসে যে সুর ভাসে, আমি সেই তাল

ঝংকার তোলে ঝড় উথাল-পাথাল

শূন্যে নরম রোদ, সবুজ বাঁশি

বাঁশিতে তুমুল সুর দুঃখ বিনাশী

মাটিতে রেখেছি পা, আকাশে হৃদয়

হৃদয় চেয়েছে হতে বিশুদ্ধময়

ভাসছে মেঘলা রোদ, সতেজ ভাষণ

হৃদয়ের ছায়াতলে পেতেছি আসন

প্রেমের সলতে জ¦লে, জাগে মোমপাখি

নিশিদিন পুড়ে তাকে আলোময় রাখি

কার লাগিয়া

 

কার লাগিয়া সাজো অমন,

কার লাগিয়া সাজো;

কার লাগিয়া ঝংকারিয়া

ঘুঙুর হয়ে বাজো!

 

কার লাগিয়া সোনার বরণ

রৌদ্র করো নীল,

কোন সারসের তরল চোখে

খোঁজো দেখার মিল!

 

কার লাগিয়া প্রবাল তলে

জাগাও হিমালয়,

কার ভাবনে শিহরণে

উথাল-পাথাল বয়!

 

কার লাগিয়া মাতন তোলো,

কাঁপাও ছেঁড়াদ্বীপ;

মুক্তা জড়াও কণ্ঠহারে,

কপালে নীল টিপ!

 

কার লাগিয়া সাজো অমন,

কার লাগিয়া মেয়ে;

শোভায় বিলীন নিখোঁজ থাকি

তোমার পানে চেয়ে!

নদী ও গল্প

 

অতঃপর গল্প এখানে শেষ,

আর নদীদের শুরু।

 

জোছনা লেপ্টে আছে স্থির পাটাতনে,

জলের আয়নায় মুচকি হাসে বসতি-স্মারক,

জানালায় হাত নাড়ে প্রেমিক জোনাকি।

দূর কাশবনে দোলে কার সিক্ত অধর,

সাগর নিয়েছে ঠাঁই তার যুগল কুয়ায়।

 

অভিশাপের হালখাতা নিয়ে

ফিরে এসেছে পলাতক ঈশ^র।

 

বোতামখোলা উজানে তুমুল প্লাবন,

অকাল গর্ভ নিয়ে ভাটির দেশে সরব ফিসফাস!

ঘরকন্যা আগলে আছে বানভাঙ্গা পাখি

জলভারী গল্পের লড়াকু ডানায়।

 

অতঃপর নদী এখানে শেষ,

আর গল্পদের শুরু!

সভ্য আদিম

 

স্বপ্ন ছিল             আকাশের মতো ছাদ

                        মেঘেদের ঝরা জল

                        সাধুর শুদ্ধ মন

                        শিশুদের সরলতা

 

চেয়েছিলাম          পাখিদের সুখতৃপ্তি

                        শান্ত নদীর ঢেউ

                        অরণ্য নীরবতা

                        পাতাদের ঝরা সুর

 

পেতাম যদি         প্রদীপের উজ্জ্বলতা

                        ফুলেদের মহানতা

                        আগরের সাদা ধোঁয়া

                        মমতার আলতো ছোঁয়া

 

চেয়েছি হতে        জ¦লন্ত মোমবাতি

                        আঁধারে নির্লিপ্ত

                        সহনের ধূপকাঠি

                        জীবনের মুনিঋষি

 

চেয়েছিলাম          শান্তির কুঁড়েঘর

                        শুদ্ধ পান্তাভাত

                        গুল্ম বন্ধুসখা

                        আত্মীয় ঝোঁপঝাড়

 

স্বপ্ন ছিল দূর্বাঘাসের দোল

                        বিনয়ের নত বাঁক

                        পাহাড়ের অটলতা

                        এক সার্থক দর্পণ

 

কিন্তু হয়েছি          বাসনার উল্টো পিঠে

                        অস্থির এক মন

                        লোভের অতলে ডোবা

                        সভ্য আদিমজন

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত