বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫, ১৭ বৈশাখ ১৪৩২
দেশ রূপান্তর

বিচারক নিয়োগে অধ্যাদেশ

রিট শুনানিতে বিব্রত হাইকোর্ট

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৫, ০৪:১৬ পিএম

‘সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর কয়েকটি ধারা চ্যালেঞ্জ করে সংশোধনীর নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনের শুনানিতে বিব্রতবোধ করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজমল হোসেন খোকন অধ্যাদেশের ৩, ৪, ৬ ও ৯ ধারা চ্যালেঞ্জ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন। গত ২১ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠন সংক্রান্ত অধ্যাদেশের এ গেজেট জারি হয়।

রিট আবেদনের যুক্তিতে আইনজীবী তখন বলেন, ৩ ধারা অনুযায়ী ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ এ সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের এমনভাবে রাখা হয়েছে যাতে তাদের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্ধ হতে পারে। এ ছাড়া কাউন্সিলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। ৪ ধারা অনুযায়ী, কাউন্সিলের সচিব হবেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল। আবার তিনি (রেজিস্ট্রার জেনারেল) হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক প্রার্থীও হতে পারবেন। ৬ ধারা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ৪৫ ধরা হয়েছে, যা সংবিধানের পরিপন্থী এবং এর ফলে অনেক যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হবেন। ৯ ধারায় আপিল বিভাগের একজন বিচারক সুপারিশ করবেন বলা হয়েছে।

অথচ আপিল বিভাগের বিচারকও কাউন্সিলের মাধ্যমে নিয়োগ পাবেন বিধায় এটি আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গত ২৩ জানুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্যে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

গতকাল আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, আহসানুল করিম ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী।

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন শুনানি করতে চাইলে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বলেন, তিনি এখানে (বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত কাউন্সিল) পক্ষ। কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে সভায় ছিলেন। এ কারণে আবেদনটির ওপর শুনানিতে অপারগতা প্রকাশ করে বিব্রতবোধের কথা বলেন তিনি। একপর্যায়ে রিটকারী আইনজীবীদের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর আদেশ হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নূর মুহাম্মদ আজমী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি কাউন্সিলের সদস্য। যে কারণে তিনি এটি শুনতে বিব্রতবোধের কথা বলেন। এখন এ বিষয়ে শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি নতুন একটি বেঞ্চ নির্ধারণ করবেন।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত