কয়েক বছর আগে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে সে দৃশ্যপটে বদল এসেছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইউরোপের নিরাপত্তাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উদ্বেগ বেড়েছে ইইউর। যার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপ এখন নিজের মহাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে এশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইউরোপের নানা উদ্যোগ হুমকিতে পড়তে পারে।
২০২১ সাল থেকে বেশিরভাগ বৃহৎ ইউরোপীয় রাষ্ট্র ‘ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল’ গ্রহণ করেছে এবং এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে। সে ধারাবাহিকতায় জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় রাষ্ট্র ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। গত বছর থেকে সমুদ্রসীমা নিয়ে চীনের সঙ্গে ফিলিপাইনের বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ইইউ এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ফিলিপাইন। পাশাপাশি ফিলিপাইনের সামরিক ঘাঁটিতে ফরাসি সৈন্যদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার জন্য একটি ভিজিটিং ফোর্স চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে ইউরোপের আরেক ক্ষমতাধর রাষ্ট্র ফ্রান্স। কয়েক সপ্তাহ আগে ফ্রান্সের পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী শার্ল দ্য গল প্রথমবারের মতো ফিলিপিনো বাহিনীর সঙ্গে যৌথ যুদ্ধ মহড়ায় অংশ নিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েই পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ কমানোর কথা বলছেন। এর ফলে ইউরোপে নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ন্যাটোতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা কমলে ইউক্রেনে অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের তৈরি অন্যান্য সম্ভাব্য সংঘাত ঠেকানোর দায়িত্ব ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোকেই এককভাবে বহন করতে হতে পারে। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ মার্চ ‘রিআর্ম ইউরোপ’ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেয় ইউরোপীয় কমিশন। এ বিষয়ে উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেন, আমরা পুনরায় অস্ত্রসজ্জার যুগে রয়েছি। ইউরোপকে পুনরায় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিতকরণ কর্মসূচির লক্ষ্য আগামী ৪ বছরে প্রায় ৮০ হাজার কোটি ইউরো তহবিল সংগ্রহ করা।
পরিকল্পনাটি মহাদেশটির প্রতিবেশীদের মধ্যেই আপাতত দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তৈরি করা হলেও, এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য ইইউ-এর সমর্থন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেতে পারে। ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল ওয়ার কলেজের অধ্যাপক জাচারি আবুজা ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ন্যাটোর প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের দুর্বল সমর্থনের কারণে, ইউরোপীয়রা কিয়েভকে সমর্থন এবং ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে আরও বেশি মনোযোগী হবে। কারণ, ইউরোপীয়দের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো সক্ষমতা নেই।
