ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর চালানো যেকোনো হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করা হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এর জন্য ইরানকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করার হুঁশিয়ারিও দেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া সে পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, এই মুহূর্ত থেকে হুথিদের ছোড়া প্রতিটি গুলি ইরানের অস্ত্র ও নেতৃত্ব থেকে ছোড়া গুলি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ইরানকে দায়ী করা হবে। তবে এর পরিণতি হবে ভয়ংকর! দ্বিতীয় দফায় ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে ফেরার পর প্রথমবার মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ করেছে তার প্রশাসন। ট্রাম্পের বক্তব্যকে বেপরোয়া ও উসকানিমূলক হিসেবে অভিহিত করে জাতিসংঘকে চিঠি দিয়েছে ইরান।
লোহিত সাগরে জাহাজে হামলার হুমকির জবাবে এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। সোমবার হুথি-নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, লোহিত সাগরের বন্দরনগরী হোদেইদা এবং রাজধানী সানার উত্তরে আল জাওফ গভর্নরেটকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পেন্টাগন বলেছে, তারা এখন পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি স্থানে হামলা চালিয়েছে। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, এই অভিযানের উদ্দেশ্য হুথিদের হামলা বন্ধ করা, শাসন পরিবর্তন নয় ।
হোয়াইট হাউজ বলছে, ট্রাম্পের বার্তা হলো ইরান যেন যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্ব সহকারে নেয়।
এদিকে, ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ করেছে ইরান। সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এমনটাই দাবি করেছে তেহরান। জাতিসংঘের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং বলপ্রয়োগের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইয়েমেনে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন বা অঞ্চলে কোনো অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে যেকোনো অভিযোগ ইরান দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
