গত ৭ মাস ধরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের এমআরআই মেশিন বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা নিতে আসা রোগীরা। একই সঙ্গে ত্রুটি থাকার কারণে বন্ধ রয়েছে সিটি স্ক্যান। তাছাড়া ফিল্ম সংকটে বন্ধ রয়েছে এক্সরে মেশিনটিও।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কুমেক হাসপাতালে প্রতিদিন জরুরি বিভাগ, আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগে এক হাজার থেকে দেড় হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। এসব রোগীকে রোগ নির্ণয়ের জন্য দেওয়া হয় আধুনিক পরীক্ষা। অথচ গত ৫ আগস্টের পর কক্ষের সিলিং ভেঙে পড়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয় এমআরআই মেশিন। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে সিটি স্ক্যান মেশিন। একই সময় থেকে ফিল্ম না থাকায় বন্ধ রয়েছে এক্সরে মেশিনটিও। এতে চিকিৎসকের দেওয়া পরীক্ষা করাতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। বাধ্য হয়ে পরীক্ষা করাতে হয় প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে। এতে ৬-৮ হাজার টাকা বাড়তি গুনতে হয় তাদের।
এ বিষয়ে জেলার মুরাদনগর উপজেলার নাজমা বেগম বলেন, তার স্বামী আব্দুল মালেককে কুমেক হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক তাকে এমআরআই পরীক্ষা করতে দেন। কিন্তু হাসপাতালে এমআরআই পরীক্ষার মেশিন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন তিনি। পরে ৭ হাজার টাকা দিয়ে পাশের একটি প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে এমআরআই পরীক্ষা করান। একটি পরীক্ষায় ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। বাকি পরীক্ষা ও ওষুধ খরচ জোগাতে তার অনেক কষ্ট হচ্ছে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা তাছলিমা আক্তার বলেন, তার বাবা আব্দুল ছাত্তারকে কুমেক হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর জন্য নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে সিটি স্ক্যান পরীক্ষা দেন। সেই অনুযায়ী কুমেক হাসপাতালের সিটি স্ক্যান বিভাগে গিয়ে জানতে পারেন সিটি স্ক্যান পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। বাধ্য হয়ে তিনি একটি প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে এ পরীক্ষা করান।
এ বিষয়ে কুমেক হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট (এমআরআই) আল মামুন বলেন, ‘আমাদের এমআরআই মেশিন ঠিক আছে। কক্ষের সিলিং ভেঙে পড়ার কারণে গত ৭ মাস ধরে এমআরআই পরীক্ষার কাজ বন্ধ রয়েছে।’
এ বিষয়ে কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘এ হাসপাতালে ৫০০ শয্যার জায়গায় এক হাজার ৪৭৫ রোগীকে সেবা দেওয়া হয়। এতে অনেক কষ্ট হয়। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।’
