কালীগঞ্জে হামলায় ১৫ ব্যবসায়ী আহত, দোকান ভাঙচুর

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৫, ০২:৩১ এএম

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার হাজরানীয়া বাজারে পূর্ববিরোধের জেরে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে ১৬ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখম করেছে। হামলাকারীরা ব্যবসায়ীদের দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় ব্যবসায়ী রেয়াজুল ইসলাম ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।

আহতরা হলেন মোজাম খাঁ, মশিউর রহমান, ইসমাইল হোসেন, রবিউল ইসলাম, মতিউল ইসলাম ঝন্টু, মকসুদার রহমান, জিয়ারুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, রিয়াজুল ইসলাম, বুলু মিয়া, ভুট্টা, জাহাঙ্গীর হোসেন, একাব্বর মিয়া, ফরিদুল ইসলাম, আবু সায়েম, নয়ন মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটমারী গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে হাজরানীয়া বাজারের ব্যবসায়ী মশিউর রহমান মিন্টুর বাগ্বিত-ার জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাতেই একদল দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা নিয়ে বাজারে অবস্থান নেওয়া মোজাম খাঁ নামের এক ব্যক্তিকে মারধর শুরু করে। তাকে বাঁচাতে গেলে ব্যবসায়ী মিন্টুসহ অন্তত ১৬ জন হামলার শিকার হন। হামলার পরপরই হামলাকারীরা বাজারের অন্তত ১৭টি দোকানে ভাঙচুর চালায় এবং নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

হামলার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহত ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘হামলাকারীরা হঠাৎ আমাদের দোকানে আক্রমণ চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। এ সময় টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে কীভাবে ঈদ পালন করব বুঝতে পারছি না।’

মুদি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জেরে বাজারে কথা কাটাকাটি হয়। এই কারণে দোকানগুলোতে হামলা করে লুটপাট করবে এটা আমরা ভাবতে পারিনি। দোকানের মালামালসহ যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেটি একেবারেই অমানবিক।’

হাজরানীয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই হামলার ঘটনার পর বাজারে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

কালীগঞ্জ থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, ‘খবর পেয়ে যৌথবাহিনীর একটি টিম নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং আহত ব্যবসায়ীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছি এবং দোষীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত