সেনাবাহিনীর দখলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৫, ০৭:২০ এএম

সুদানের সেনাবাহিনী দেশটির রাজধানী খার্তুমের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠানো সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের ভিডিও বার্তায় আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সকে (আরএসএফ) হটিয়ে ভবনটির দখল নেওয়ার কথা জানানো হয়। সুদানের সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ব্যাকফুটে ছিল। তবে সম্প্রতি সাফল্য অর্জন করতে শুরু করে এবং আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের কাছ থেকে দেশের কেন্দ্রস্থল পুনরুদ্ধার করেছে। ফলে দুই বছর ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে এটিকে সেনাবাহিনীর জন্য বড় প্রতীকী অর্জন হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা মধ্য খার্তুমের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, আরএসএফ যোদ্ধারা প্রায় ৪০০ মিটার দূরে সরে গেছে। সশস্ত্র বাহিনীতে আধাসামরিক বাহিনীর একীকরণকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের এপ্রিলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আরএসএফ দ্রুত খার্তুমের প্রাসাদসহ শহরের বাকি অংশও দখল করে নেয়। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সেনাসদস্যদের উল্লাস করার ভিডিও শেয়ার করেছে সেনাবাহিনী। ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের জানালার কাচ ভেঙে গেছে এবং দেওয়াল বুলেটের দাগে ভরা। তবে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ পুনর্দখল ও খার্তুমে সেনাবাহিনীর অগ্রগতির বিষয়ে আরএসএফ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে আরএসএফ পশ্চিমাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করেছে। যুদ্ধে তাদের অবস্থান শক্ত করেছে এবং দেশকে কার্যত বিভক্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে আলাদা একটি সরকার গঠন করা আরএসএফ এখনো খার্তুমের বেশ কিছু অংশ, প্রতিবেশী ওমদুরমান ও পশ্চিম সুদানের অনেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। তারা এখন দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ শক্তঘাঁটি আল-ফশিরের দখল পেতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজধানীর দখল পেলে সেনাবাহিনী সুদানের মধ্যাঞ্চলে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের এ সংঘাত বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে বলে ভাষ্য জাতিসংঘের। তীব্র হতে থাকা এই মানবিক সংকট এরই মধ্যে একাধিক এলাকায় দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছে। সংঘাতে বিপর্যস্ত দেশটির বিভিন্ন জায়গায় অনেক প্রাণঘাতী রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। দুপক্ষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আছে। আরএসএফ কোথাও কোথাও গণহত্যা চালিয়েছে বলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন। তবে উভয়পক্ষই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

খার্তুমে শুক্রবার মাঝেমধ্যে গুলির আওয়াজ শোনা গেছে। সেনাবাহিনী আরএসএফকে কোণঠাসা করতে চাইছে বলে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত