আসরের নামাজ শেষ হতেই দুই পাশে মুখোমুখি হয়ে লম্বা সারিতে বসে পড়েন নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ। মসজিদের মাইক থেকে ভেসে আসা বয়ান শোনেন ধীরস্থির হয়ে। এরই মধ্যে চলে ইফতার বিতরণ। মাগরিবের আজান পড়তেই সবাই একসঙ্গে শুরু করেন ইফতার। প্রতি বছর রমজান মাসে চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের খোলা বারান্দার প্রতিদিনের দৃশ্য থাকে এমন।
আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ মুঘল স্থাপত্য শৈলীর ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। এটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালনা করে। ২০০১ সালে মসজিদটির খতিব মাওলানা সাইয়্যেদ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরী আল মাদানি প্রথমবারের মতো গণ-ইফতারের আয়োজন করেন। সেই থেকে গত ২৪ বছর ধরে হচ্ছে গণ-ইফতার। প্রতিদিন একই কাতারে বসে ধনী, গরিব, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার ৪-৫ হাজার মানুষ ইফতার করে থাকেন।
প্রতিদিন বিশাল হাঁড়িতে সেদ্ধ করা হয় ছোলা। সারি সারি বড় কড়াইয়ে ভাজা হয় পেঁয়াজু, বেগুনি ও আলুর চপ। বড় বড় ড্রামে তৈরি করা হয় বিশেষ শরবত। চট্টগ্রাম নগরীর সুপরিচিত আবুল হোসেন বাবুর্চি ও তার কয়েকজন সহকারী ইফতারি সামগ্রী তৈরি করেন। আসরের ওয়াক্তের পর ৩০ থেকে ৪০ স্বেচ্ছাসেবী ইফতারি রোজাদারদের সামনে পরিবেশন করেন। ইফতারের সাইরেন বাজার আগ মুহূর্তে হাত তুলে মোনাজাতে অংশ নেন মুসল্লিরা। এরপর প্রায় ৩৫৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের ইফতারে শামিল হন তারা।
মসজিদের খতিবের একান্ত সচিব মো. হাসান মুরাদ এই আয়োজনের দেখভাল করেন। তিনি জানান, প্রতিবছর ইফতার আয়োজন চলে। বছর বছর এখানে মুসল্লি আর রোজাদারের সংখ্যা বাড়ছে। প্রথম দিকে দুই হাজার মানুষ হলেও এখন তিন থেকে চার হাজার মানুষ ইফতার করছেন। ১৫ রোজার পর বর্তমান উপস্থিতি ছাড়িয়ে আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। একসঙ্গে সবাই পেট ভরে ইফতার করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে যখন মসজিদ থেকে বের হন, অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে বলে যোগ করেন হাসান মুরাদ।
