বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা জিয়াউলের ঈদের ব্যানার নিয়ে তোলপাড়

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৫, ০৮:৫৬ পিএম

বরিশালে আজীবনের জন্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মো. জিয়াউল হক মাসুমের ঈদের শুভেচ্ছা ব্যানার ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নগরীর চৈতন্য স্কুলের সামনের মার্কেটের ওপর টাঙানো ওই ব্যানারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এর নিচে মাসুম নিজেকে বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন বিএনপি সংশ্লিষ্ট পদে উল্লেখ করেছেন, যদিও তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বরিশাল বিএনপির নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বহিষ্কৃত হয়েও দলের নাম ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো অনৈতিক এবং এটি দলীয় শৃঙ্খলার লঙ্ঘন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অমান্য করে ২০২৩ সালের ১২ জুন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জিয়াউল হক মাসুম। এরপরই তাকে বিএনপি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাসুম আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সক্রিয় থাকার পর এখন আবার বিএনপিতে ফেরার চেষ্টা করছেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি দলে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, মাসুম বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন না। তিনি আগে মহানগর কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ১৮ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছিলেন। বহিষ্কৃত ব্যক্তি কীভাবে নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে ব্যানার টানিয়েছে, সেটি আমরা কেন্দ্রকে জানাব।

বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, মাসুমকে আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সে বিএনপির কোনও পদে নেই। তাহলে সে কিভাবে দলের নাম ব্যবহার করছে? আমি অবশ্যই তাকে জিজ্ঞাসা করব।

এ নিয়ে জিয়াউল হক মাসুমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যানারে ছাপাখানার ভুলের কারণে 'সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল' ও 'সভাপতি ১৮ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দল' লেখা হয়েছে। আমি বিএনপিকে মনেপ্রাণে ভালোবাসি।

এমন বিতর্কিত ব্যানার টানানোর পর থেকেই নগর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, বহিষ্কৃত একজন নেতা কিভাবে দলীয় পরিচয়ে ব্যানার টাঙিয়ে প্রচারণা চালান, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি ইচ্ছাকৃত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে আলোচনা চলছে। মাসুমের এই ব্যানারের ছবি ও ভিডিও ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়েছে, যা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেও উসকে দিয়েছে।

নেতাকর্মীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ বিএনপির বহিষ্কৃত পরিচয়কে পুঁজি করে দলীয় প্রচারণা চালাতে না পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত