একের পর এক সুযোগ নষ্ট করেছে বাংলাদেশ। ফিনিশারদের ব্যর্থতায় পায়নি গোলের দেখা। তবে ডিফেন্স লাইন কড়া পাহাড়ায় রেখেছিল ভারতের আক্রমণভাগকে। ফলে কোনো দলই পায়নি গোলের দেখা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হয়েছে গোলশূন্য ড্র।
তবে সুযোগ মিসের আফসোস করতেই পারে বাংলাদেশ দল।
এ ম্যাচটা জেতার মতোই খেলেছিল বাংলাদেশ। অন্তত প্রথমার্ধে তো ভারতকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ভারত কিছুটা গুছিয়ে উঠলে জয়ের লক্ষ্য থেকে সরে এসে বাংলাদেশ খেলেছে রক্ষণাত্মক ফুটবল। তাতে ভারত কিছুটা আক্রমনাত্মক হলেও গোলের সুযোগ সেভাবে তৈরী করতে পারেনি।
এই ম্যাচেই দেশের জার্সিতে অভিষেক হয় ২৭ বছরের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ তারকা হামজার। ভারতও দুর্দশা ঘোঁচাতে অবসর থেকে সুনীল ছেত্রীকে ফেরান ভারত কোচের মানোলো মার্কেজ।
হামজা তার কাজটা পুরো ম্যাচ জুড়েই সুচারুভাবে করেছেন। তবে অবসর ভেঙে ফেরা সুনীল নিজের ছাঁয়া হয়ে ছিলেন। বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়াকে বাইরে রেখে একাধশ সাজিয়েছিলেন। তপু বর্মণ নেমেছিলেন আর্মব্যান্ড পড়ে। যদিও ২২ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় এই সেন্টারব্যাককে।
কিক-অফের পরেই বল পেয়েছিলেন হামজা। তা লম্বা করে বাড়িয়ে চেয়েছিলেন আক্রমণে ওঠা জনি ও রাকিবকে দিতে। তবে ভারতের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে বল গোললাইন অতিক্রম করতে নিয়েছিল। ভারত কিপার বিরাট কেইথ কর্নার বাঁচাতে গিয়ে জনির পায়ে বল তুলে দেন। জনি ফাঁকা পোস্ট পেয়েও কোনাকুনি সাইড নেট কাঁপান। প্রথমার্ধে আরও অন্তত্য তিনটি সুযোগ পায় বাংলাদেশ গোলের। তবে ডেডলক ভাঙেনি।
বিরতি থেকে ফেরা বাংলাদেশের খেলায় আগেই তেজ সেভাবে ছিল না। কিছুটা রক্ষণাত্মক ভূমিকা নিয়ে নেয় তারা। তাই বলের নিয়ন্ত্রণে দ্বিতীয়ার্ধে ভারত ছিল এগিয়ে। তারপরও ৭৫ মিনিটে গোল পেতে পারতো বাংলাদেশ। রাকিবের লো ক্রসে ফাহিমের প্রচেষ্টা অল্পের জন্য পোস্টে থাকেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ভারত কোচ বারবার খেলোয়াড় পরিবর্তন করেছেন। তবে লাভ হয়নি। হতাশ হয়ে ম্যাচের ৮৪ মিনিটে ছেত্রীকেও তুলে নেন তিনি।
৮৯ সিনিটে বক্সের বাইরে থেকে অবশ্য তার শট কোন মতে রুখে দেন ভারত কিপার। নইলে তিন পয়েন্ট জুটতে পারতো বাংলাদেশের।অভিষেকটা জয়ে রাঙাতে না পারলেও সদলবলে হামজা মাঠ ছেড়েছেন স্ফিত হাসিতে।
