বাংলাদেশে উপেক্ষিত আরহাম সুযোগ পেলেন অস্ট্রেলিয়া যুব দলে

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৮ পিএম

গত বছরের নভেম্বরে কম্বোডিয়ায় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপ বাছাই খেলে বাংলাদেশ। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে সেবারই প্রথম কোনো প্রবাসী ফুটবলার বাংলাদেশ দলে খেলেছিলেন। তিনি ছিলেন আরহাম ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ স্তরে খেলা ওয়েন্টার্ন ইউনাইটেড একাডেমির অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ের ফুটবলার। এক বছর যেতে না যেতেই আরহাম ডাক পেলেন অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-২০ দলের চূড়ান্ত স্কোয়াডে। 

এ মাসেই অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে জাপানে ত্রিদেশীয় একটি সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিক জাপান বাদে ‍তৃতীয় দলটি স্পেন। জাপান অনূর্ধ্ব-২০ দলের পাশাপাশি দেশটির একটি ক্লাবের সঙ্গেও খেলবে অস্ট্রেলিয়া। সকারুরা সম্প্রতি ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্ট খেলেছে। তবে এবারের স্কোয়াডে সেই দলের নেই অনেকেই। ১৩ জনই অস্ট্রেলিয়ার জুনিয়র দলে অভিষেকের অপেক্ষায়; আরহাম তাঁদের একজন। 

মাত্র এক বছর বয়সী আরহামকে নিয়ে ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমান প্রকৌশলী বাবা আরহাম ইসলামকে ও মা নুসরাত শাহ নাজ। অস্ট্রেলিয়ায় বাবার উৎসাহে ফুটবলার হয়ে ওঠেন আরহাম। মূলত রাইট উইংয়ে খেলেন। পাশাপাশি রাইট ব্যাকেও দলকে সাপোর্ট দিতে পারেন তিনি। কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের হয়ে বাছাই প্রতিযোগিতায় তিনি ভালোই খেলেছিলেন। সে সময় ওই দলের কোচ ছিলেন বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু। তিনি পরবর্তীতে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ হন। আরহামের ব্যাপারে টিটু তখন বলেছিলেন, 'আরহামের মধ্যে একজন ফুটবলার হওয়ার তীব্র ইচ্ছা আছে। টেকননিক্যালি ভালো ও। ওর পজিশনে খাপ খাইয়ে নিতে পারলে ভালো করবে। তবে এখনই মাতামাতি কিছু করার নেই। ওকে আগে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।'

বাবা-মার সাথে আরহাম ইসলাম

গত সেপ্টেম্বরে টিটুর অধীনে ভিয়েতনামে অনূর্ধ্ব-২৩ এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই খেলে বাংলাদেশ। সেখানে আরহামকে ডাকেননি সাইফুল বারী। ওই সময় দলটি গড়া হয় জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড আল আমিন, শেখ মোরছালিনদের মতো তারকাদের নিয়ে। ছিলেন আরেক প্রবাসী ফাহামিদুল ইসলামও। যদিও ভিয়েতনামে ভালো কিছু করতে পারেনি সাইফুল বারী টিটুর দল।

আরহামের ব্যাপারে বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় অধিনায়ক ও ২০২৪ সালের অ–১৭ দলের ম্যানেজার জাহিদ হাসান এমিলি বলেছেন, ‘একজন বাংলাদেশি ফুটবলার অস্ট্রেলিয়া জুনিয়র দলে জায়গা পেল—এটি খুব গর্বের। তবে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ হয়তো তাকে আর পাবে না। অ–২০, পরে অ–২৩, তার যোগ্যতা থাকলে একদিন জাতীয় দলে খেলতে পারবে।’

এমিলি আফসোসের সুরে বলেন, ‘গত এক বছর ফেডারেশন আরহাম বা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি। অ–১৯ বা অ–২৩ দলের কোনো টুর্নামেন্টে ডাক দেওয়া যেত। সে ও তার পরিবার প্রথমে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়েছিল। এরপরও ফেডারেশনের উচিত ছিল তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত