নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ঈদের সেমাই

মেশানো হচ্ছে কৃত্রিম রঙ, ঝুঁকির মুখে জনস্বাস্থ্য

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৫, ০২:৪৩ এএম

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে ঘিরে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে বিভিন্ন সেমাই কারখানাগুলোয় চলছে সেমাই উৎপাদন। কিন্তু বেশিরভাগ কারখানায় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই। শুধু তাই নয়, কৃত্রিম রঙ মিশিয়ে বানানো হচ্ছে বাহারি রঙের সাদা ও লাচ্ছা সেমাই। স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে দ্রুত এসব সেমাই কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।

দু-তিন দিন বাদেই মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই ঈদকে ঘিরে হিলির স্টেশন ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় সেমাই কারখানা। এসব কারখানার মধ্যে কিছু কারখানার অনুমোদন থাকলেও বেশিরভাগ কারখানার নেই লাইসেন্স। আবার কেউ কেউ একটি কারখানার অনুমোদন নিয়ে দুটি কারখানা পরিচালনা করছেন। এসব কারখানাগুলোতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে সেমাই। সেই সঙ্গে কৃত্রিম রঙ মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে বাহারি রংয়ের সেমাই। এমনকি হাতের পরিবর্তে পা ব্যবহার করে সেমাই তৈরির চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। পোড়া তেল দিয়েই চলছে সেমাই ভাজার কার্যক্রম। কোনো কারখানাতেই কারিগরদের স্বাস্থ্যসম্মত পোশাক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।

তবে স্বাস্থ্যবিধি ও লাইসেন্সের শর্ত মেনেই সেমাই তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি কারখানা মালিকদের। যদিও কারিগরদের দাবি গরমের কারণে তারা স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করছেন না। প্রকাশ্যেই এমন কর্মকা- চললেও প্রশাসনের নজরদারির অভাব বলছেন স্থানীয়রা।

সেমাই কারখানায় কর্মরত শ্রমিক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সেমাই তৈরি ও ভাজার কাজ করছি। আমাদের প্রত্যেককে স্বাস্থ্যসম্মত পোশাক ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও প্রচ- গরমের কারণে তা মানা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া হাতে গ্লাভস পরে আমাদের কাজ করতেও সমস্যা হয়।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সেমাই কারখানার মালিক তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের সময় লাচ্ছা সেমাইয়ের চাহিদা বেড়ে যায়। এ সুযোগে ডাঙ্গাপাড়ায় বেশ কিছু সেমাই কারখানা গড়ে উঠেছে। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিয়েই আমরা সেমাই তৈরি করছি। আমাদের এখানকার উৎপাদিত সেমাই দিয়ে পুরো উত্তরবঙ্গের চাহিদা মেটানো হয়।’ 

বিএসটিআই দিনাজপুর অফিসের ফিল্ড অফিসার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে তদারকি করা হয়। এ সময় যাদের ত্রুটি পাওয়া যায় তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ শোকজ করা হয়। এরপরেও আমাদের একটি বৃহৎ এলাকা দেখতে হয় বিধায় সবসময় তদারকি করা সম্ভব হয় না।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে সেমাই কারখানাগুলোতে তদারকি করা হচ্ছে। সম্প্রতি হিলির ডাঙ্গাপাড়ায় অবস্থিত পাঁচটি সেমাই কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় দুটি প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও কৃত্রিম রংয়ের ব্যবহার করায় তাদের ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।’

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, ‘সেমাই কারখানাগুলোর স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরির দায়ে কারখানাগুলোকে আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি লাইসেন্স না থাকলে কারখানাগুলো সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত