সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে মস্কো

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৪৪ এএম

রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে নতুন আরও ১ লাখ ৬০ হাজার সেনা নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেনে যুদ্ধাবসান বা যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন সেনা এই সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো। নিয়োগ দেওয়া নতুন এই সেনাদের বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩০ বছর। ২০১১ সালের পর এটিই দেশটির সেনাবাহিনীতে সর্বোচ্চ সংখ্যক নিয়োগ।

কয়েক মাস আগেই পুতিন বলেছিলেন যে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২৯ লাখ এবং সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ১৫ লাখ করা উচিৎ। এরপরই নতুন সেনা নিয়োগের ঘোষণা এলো। আগামী তিন বছরে এ নিয়োগের সংখ্যা বেড়ে এক লাখ ৮০ হাজারে দাঁড়াবে। রুশ সেনাবাহিনীর সেনা মোতায়েন বিভাগের প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল ভøাদিমির সিমলিয়ানস্কি বলেছেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সেনাদের ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হবে না। বরং সেজন্য ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বাহিনী রয়েছে। তবে যুদ্ধের প্রথম দিকে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ করা সৈন্যদের সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধে মারা যাওয়ার এবং তাদের ইউক্রেনে পাঠানোর খবর পাওয়া গিয়েছিল। সেনা নিয়োগের এই কর্মসূচি এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত চলবে।

প্রতি বছরের বসন্ত ও শরৎকালে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় রাশিয়া। তবে, সর্বশেষ ঘোষণায় যে এক লাখ ৬০ হাজার তরুণকে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে, তা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ১০ হাজার বেশি। গত বছরের শুরুতে যুদ্ধে যোগদানের জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যদের বয়সের সর্বোচ্চ সীমা ২৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করা হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরুর পর থেকে পুতিন ইতিমধ্যে তিনবার সামরিক বাহিনীর আকার বাড়িয়েছেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেনা সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ন্যাটোর ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণের কথা বলেছিল। বছরে দুইবার নিয়মিত সেনা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বাইরে রাশিয়া উত্তর কোরিয়া থেকে ব্যাপক সংখ্যক যোদ্ধা এবং হাজার হাজার চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগ করছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপক সেনা হতাহত হওয়ার কারণে মস্কোকে নতুন সেনা নিয়োগের পথে হাঁটতে হয়েছে। বিবিসি ও মিডিয়াজোনা যাচাই করে দেখেছে যে ইউক্রেনে নিহত রুশ সৈন্যের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তবে, ধারণা করা হয়, হতাহতের আসল সংখ্যা হয়তো এর দ্বিগুণ হবে। এদিকে, যুদ্ধবিপর্যস্ত অঞ্চলটিতে সংঘাত কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এখনো। রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের শহর খেরসনের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে দেশটির ৪৫ হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পূর্ণ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব রাশিয়া মেনে নেয়নি, কিন্তু ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখার ব্যাপারে তারা সম্মতি জানিয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত