আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হাঙ্গেরি। গাজায় গণহত্যার অভিযোগে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা উপেক্ষা করে গত বুধবার রাতে বুদাপেস্ট বিমানবন্দরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দেশটিতে রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগত জানান হাঙ্গেরির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টোফ সালাই-বোবরোভনিকজি। এর কয়েক ঘণ্টা পরই দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
বিমানবন্দর থেকে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে সামরিক অভ্যর্থনা গ্রহণ করেন নেতানিয়াহু। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার হাঙ্গেরির ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের সঙ্গে বৈঠক করেন। আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পরও নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। হাঙ্গেরি সফর তার ইউরোপের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। আইসিসি গত নভেম্বরে জানায়, গাজায় হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে। তবে নেতানিয়াহু এই অভিযোগকে ইহুদি-বিদ্বেষ বলে নাকচ করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের এখতিয়ার রাখে। ১২৫টি সদস্য দেশের মধ্যে হাঙ্গেরি আইসিসির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তবে এখন দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম সদস্য হিসেবে আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।
হাঙ্গেরির আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্থাটি থেকে সরে যেতে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে লিখিত নোটিস পাঠাতে হবে, যার কার্যকারিতা শুরু হবে এক বছর পর। আইসিসির সদস্য হওয়ায়, হাঙ্গেরির উচিত ছিল নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করে দ্য হেগে আদালতে পাঠানো। তবে সদস্য দেশগুলো সবসময় এই পরোয়ানা কার্যকর করে না। ইউরোপের কিছু আইসিসি সদস্য দেশ নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিলেও জার্মানি জানিয়েছে, তারা তা করবে না। নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে জারি করা আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে আপিল করেছে তেল আবিব। তারা আইসিসির এখতিয়ার এবং পরোয়ানার বৈধতা উভয়ই অস্বীকার করছে।
