যুবলীগকর্মীর পা ধরে প্রাণভিক্ষা চেয়ে রক্ষা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:০৭ এএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকদলের এক নেতাকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিলে একাধিক মামলার আসামি যুবলীগ ক্যাডার সরল ও তার লোকজন। এ সময় প্রাণভিক্ষা ও ঘটনা কাউকে না জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। সাইনবোর্ড এলাকায় পরিবহন টিকিট কাউন্টারের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ ও ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ধরে নিয়ে মিতালী মার্কেটের ১ নম্বর ভবনের ছাদে তুলে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় আহত স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা শাহ আলম শাহিনের পিতা আব্দুর রশিদ মোল্লা বাদী হয়ে যুবলীগের সরলসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে গতকাল শুক্রবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

আহত শাহ আলম শাহিন (২৭) নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি দক্ষিণ সানারপাড় এলাকার আব্দুর রশিদ মোল্লার ছেলে।

অভিযুক্ত যুবলীগকর্মী সরল (৪০) নাসিক ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেবপাড়া এলাকার নাদিমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মারামারি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লা থানায় ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে সাহেবপাড়া ও সাইনবোর্ড এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই-ডাকাতিসহ নানা অপকর্ম করে আসছেন। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও সরল তার বাহিনী নিয়ে এলাকায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত তার ভাই নিশাদ জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্র সমাজের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের অন্যতম ক্যাডার। তিনিও রয়েছেন বহাল তবিয়তে। 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শাহ আলম শাহিন সাইনবোর্ড এলাকায় বাসের টিকিট বিক্রির পাশাপাশি একটি চায়ের দোকান দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এতে বাধা দিয়ে দোকান দিতে হলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন সরল। অন্যথায় সাইনবোর্ড এলাকায় ব্যবসা করতে দেবেন না বলে হুমকি দেন। শাহিন চাঁদা দিতে  অস্বীকার করেন। তার জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সরলের ভাই নিশাদ (২৮), সহযোগী সুমন (৩৫), মেহেদী (২৮), হেলাল ফরাজী (৪৫), রুদ্র (২৫), রানা (২৫) ও মিলন (৩৫) মিলে সাইনবোর্ড এলাকা থেকে শাহিন মিয়াকে টেনেহিঁচড়ে একটি প্রাইভেটকারে উঠিয়ে মিতালী মার্কেটের ১ নম্বর ভবনে তাদের টর্চার সেলে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে লোহার পাইপ, হকিস্টিক দিয়ে পেটান। এতে শাহিন গুরুতর আহত হয়ে পড়লে তাকে সানারপাড় এলাকার পিডিকে পাম্পের পাশে ফেলে দিয়ে চলে যান। পরে লোক মারফত খবর পেয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।

স্বেচ্ছাসেবদল নেতা শাহ আলম শাহিন বলেন, মারপিট করার সময় সরলের পায়ে ধরে জীবন ভিক্ষা চাই। যেভাবেই হোক ২-৩ দিনের মধ্যে তাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেই। এ ঘটনায় যেন আইনের আশ্রয় না নেই এবং প্রকাশ না করি এ শর্তে আমাকে জীবনে না মেরে রাত ১টার দিকে পিডিকে পাম্প এলাকায় এনে ছেড়ে দেয়।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সরলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর থেকেই তিনি ও তার বাহিনী গা ঢাকা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তার মোবাইল নম্বরে ফোন করলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করি। এ সময় অভিযুক্ত কাউকে পাইনি। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত