বৈশ্বিক ধর্মঘটের ডাক

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৪১ এএম

গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দুটি সংগঠন নিউ ইয়র্ক হেলথকেয়ার ওয়ার্কার্স ফর প্যালেস্টাইন এবং ডক্টরস অ্যাগেইনস্ট জেনোসাইড। গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির প্রতিবাদে এই বৈশি^ক ধর্মঘটের লক্ষ্য গাজার ভয়াবহ দৃশ্য বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা। গতকাল রবিবার ওয়াফা নিউজের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। আজ সোমবার নিউ ইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় কর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন। হেলথকেয়ার ওয়ার্কার্স ফর প্যালেস্টাইন তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে লিখেছে, গাজায় গণহত্যা বন্ধে আমরা বৈশি^ক ধর্মঘটের আহ্বান জানাচ্ছি। এই উদ্দেশ্য সফল করতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল বন্ধ থাকবে। পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়। বিবৃতিতে যুদ্ধের অবসানের জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা একত্র করার গুরুত্বের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গাজায় ইসরায়েলি অপরাধ ও ফিলিস্তিনি অধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহির আহ্বান জানানো হয়েছে।

ধর্মঘটে অংশগ্রহণের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়ে বিবৃতির শেষে বলা হয়, গাজার জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে সবাই রাস্তায় নেমে আসুন। জায়নবাদীদের যুদ্ধাপরাধের অবসান ঘটান। মার্কিন সহযোগিতা বন্ধ করুন। আর সংশ্লিষ্ট সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনুন। পুরো একটা জনগোষ্ঠী যখন অনাহারে থেকে বোমার আঘাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে, আমরা তখন হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। রাস্তায় নামুন, আওয়াজ তুলুন, প্রতিবাদ করুন!

গাজায় প্রাণঘাতী ভয়াবহ হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, গতকাল উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ গেছে অন্তত ৪৬ ফিলিস্তিনির। শনিবার খান ইউনিসে ব্যাপক মাত্রায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সেখানে শিশু, নারীসহ কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী আবাসিক বাড়ি ও অস্থায়ী তাঁবুতে হামলা চালিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষ আটকা পড়ে আছে। তাই সেখানে মরদেহ ও জীবিতদের উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। শুধু খান ইউনিসেই নয়, গাজা শহরের জেইতুন পাড়াতেও রাতভর হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে ইসরায়েলি সেনারা কিছু আবাসিক বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং কমপক্ষে দুজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়। দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও বেইত লাহিয়াতেও ক্রমাগত বোমা হামলা চলছে। পাশাপাশি ইসরায়েল গাজায় ত্রাণ প্রবেশ করতে না দেওয়ায় মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি প্রতিদিনই আরও খারাপ হচ্ছে। গত এক মাসে গাজায় একটিও ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেনি। পরিবারগুলোকে এক গ্যালন পানি ভর্তি করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আসন্ন দিনগুলোয় বিদ্যমান রান্নাঘরগুলোও বন্ধ হয়ে যাওয়ার হুমকির মুখে পড়েছে।

এদিকে, গাজায় গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিতে গ্লোবাল ডে অব অ্যাকশনের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে গণহত্যাবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। গাজায় চলমান ইসরায়েলি গণহত্যা ও ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বাকস্বাধীনতার ওপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে হোয়াইট হাউজের সামনের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর সবচেয়ে বড় এই বিক্ষোভের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে রক্তপাতের নিন্দা করা। বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ফিলিস্তিনিদের অধিকারে সমর্থনকারী শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তা ছাড়া ইসরায়েলকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা হোয়াইট হাউজের সামনের রাস্তায় শিশুদের জুতা রাখেন, যা চলমান আগ্রাসনের সময় নিহত হাজার হাজার ফিলিস্তিনি শিশুর প্রতীক। তা ছাড়া নিহত ফিলিস্তিনিদের নামের তালিকাযুক্ত একটি বিশাল ব্যানারও প্রদর্শন করা হয়েছে।

এর মধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর যেন আগুন আরও উসকে দিয়েছে। ট্রাম্পের নতুন ঘোষিত শুল্ক নিয়ে সমঝোতার পাশাপাশি ইরান ও হামাসের বিষয়ে আলোচনা করতে সোমবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হয়। এ সময় ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায় হামাস যোদ্ধারা। তবে সম্প্রতি ভেস্তে যাওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে বেশিরভাগ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত