মানবপাচার মামলার প্রতিশোধ নিতে ধর্ষণ মামলা!

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৫২ এএম

মাদারীপুরে মানবপাচার মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে ধর্ষণ মামলার আবেদন করা পারভীন বেগমকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজৈর থানার ওসি মাসুদ খান। গ্রেপ্তারকৃত পারভীন রাজৈর উপজেলার শাখারপাড় গ্রামের রেজাউল মোল্লার স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মানবপাচার মামলা রয়েছে।

জানা যায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শাখারপাড় গ্রামের শাহ আলম মোল্লার ছেলে নূর আলম মোল্লাকে ১৫ লাখ টাকা চুক্তিতে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখায় পারভীন ও তার স্বামী রেজাউল মোল্লা। পরে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি তার ছেলে সাকিব মোল্লার মাধ্যমে নূর আলমকে লিবিয়ার ত্রিপলিতে নিয়ে যায়। সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন করে ধাপে ধাপে ১৭ লাখ ৮ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে পারভীন ও তার চক্রের লোকেরা। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা মাফিয়াদের কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করে ওই বছরের জুলাই মাসে নূর আলমকে আহত অবস্থায় দেশে পাঠায়। এ ঘটনায় মাদারীপুরের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর মা রাশিদা বেগম। মামলায় পারভীন বেগমকে প্রধান আসামিসহ তার স্বামী রেজাউল মোল্লা, ছেলে সাকিব মোল্লা ও আরেক মানবপাচারকারী শাহীন মিয়াকে আসামি করা হয়। জানতে পেরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান পারভীন ও রেজাউল। এরই প্রতিশোধ নিতে ও মামলাটি ধামাচাপা দিতে গত ২০ মার্চ মানবপাচার মামলার ৩ ও ৪ নম্বর সাক্ষী বখতিয়ার মোল্লা ও শাহ জালাল মোল্লাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মাদারীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে ধর্ষণ মামলার আবেদন করেন পারভীন। ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। পরে রাজৈর থানার-পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত রবিবার সকালে পারভীনকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে আরেক ভুক্তভোগী গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় গ্রামের আলী শেখের স্ত্রী আচমিনা আক্তার (২৭) বাদী হয়ে মাদারীপুর আদালতে গত বছরের ১১ অক্টোবর একই অভিযোগে পারভীনসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। তার ভগ্নিপতি সাইদুর ও চাচা সবুজকে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন করে ৫৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে চক্রটি।

এই দুটি মামলার আসামিদের মধ্যে রাজৈর উপজেলার চানপট্টি গ্রামের সুমন খালাসী (৩০) ও শাহীন মিয়া লিবিয়ায়, সাকিব মোল্লা ইতালিতে এবং রেজাউল মোল্লা, খালেদা আক্তার খাফিজা (২০) ও উর্মি বেগম (২৫) বাংলাদেশে পলাতক রয়েছে।

মানবপাচার মামলার সাক্ষী শাহ জালাল মোল্লা বলেন, ‘দালালের টাকা আমি নিজের হাত দিয়ে দিয়েছি। এ ছাড়া বখতিয়ার মোল্লাও তার মাধ্যমে দালালকে টাকা দিয়েছে। তাই আমরা সাক্ষী হয়েছি। কিন্তু পারভীন দালাল মামলাটা ধামাচাপা দিতে আমাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছে। পারভীন তার পরিবারসহ পলাতক ছিল, বাড়িতে থাকত না। তারপরও সে ঘটনাস্থল দেখিয়েছে তার বাড়িতে।’

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজৈর থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, মানবপাচারকারী দালাল পারভীন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মানবপাচার মামলা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত