ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানে রক্ত ঝরছে ফিলিস্তিনের গাজায়। মারা যাচ্ছে শিশুরা। উজাড় হয়ে গেছে জনপদ। এসব নৃশংস বর্বর হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্বব্যাপী নিন্দা আর প্রতিবাদের যে ঝড় উঠেছে, তাতে শামিল হয়েছেন খেলোয়াড়রাও।
বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ তার অফিশিয়াল ফেসবুক পাতায় ফিলিস্তিনি পতাকার ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘একজন মানুষ ও মুসলমান হিসেবে আমি ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের পাশে আছি। শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবতার জয় হোক এই প্রার্থনা। ভিডিওবার্তায় ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ। একটি ভিডিওবার্তায় মাহমুদউল্লাহ জানিয়েছেন, ‘শনিবার, ১২ এপ্রিল বিকেল ৩টায় শাহবাগ থেকে মানিক মিয়া অভিমুখে “মার্চ ফর গাজা” শিরোনামে একটি কর্মসূচি আয়োজিত হতে যাচ্ছে। আসুন আমরা সবাই মিলে সর্বস্তরের মানুষ মিলে এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করি এবং ফিলিস্তিনবাসীর প্রতি আমাদের সমর্থন পুরো বিশ্বকে জানিয়ে দিই।’
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার ছবির সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজ লিখেছেন, ‘গাজার আকাশ আজও বারুদের গন্ধে ভারী। গাজার আকাশ আজ অন্ধকার, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ঘরবাড়ি, নিস্তব্ধ শিশুরা কাঁদছে নিঃশব্দে। প্রতিটি কান্না প্রতিধ্বনিত হচ্ছে আমাদের হৃদয়ে। আসুন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ মিলাই, নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াই, আর গাজার জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করি।
হে আল্লাহ, নির্যাতিতদের ধৈর্য দিন, গাজাকে শান্তি ও নিরাপত্তা দিন। হে পরাক্রমশালী আল্লাহ, গাজাকে হেফাজত করুন, অসহায়দের সহায়তা করুন। আপনি সর্বশক্তিমান।’ ফিলিস্তিনের পতাকার ছবি দিয়ে মুশফিকুর রহিম লিখেছেন, ‘হে আল্লাহ, সব জায়গায় যারা জুলুমের শিকার তাদের হেফাজত কর। হে আল্লাহ, তাদের জন্য রক্ষাকারী, সাহায্যকারী ও শক্তিবর্ধক হয়ে যাও।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিন ফুটবল দলের বিপক্ষে খেলার একটি মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া লিখেছেন, ‘সবসময়ই তোমরা আমাদের মনে ও হৃদয়ে আছ। ভালো সময়ের জন্য দোয়া করছি।’
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সবসময়ই সোচ্চার অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যান উসমান খাজা। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে উসমান খাজা লিখেছেন, ‘গাজায় অজস্র শিশুকে মরতে দেখে কিংবা মিয়ানমারে অসংখ্য শিশুকে বাস্তুচ্যুত হতে দেখলে বোঝা যায়, আমরা কতটা ভাগ্যবান। আপনার সন্তান বা আমার সন্তান, কেউই আলাদা নয়। তারা হয়তো দেখতে অন্যরকম, তবে একমাত্র পার্থক্য হচ্ছে এই জন্মে আমরা তাদের চেয়ে বেশি ভাগ্য নিয়ে এসেছি। তাদের বাবা-মা তাদের এতটাই ভালোবাসে, যতটা আমরা আমাদের সন্তানদের ভালোবাসি। একবার তাদের হারাবার বেদনা স্মরণ করুন। তাদের জন্য দান করুন, যেমনটা আমিও করছি।’
