সরাইলে সংঘর্ষ ভাঙচুর ও লুট ইউএনও ওসিসহ আহত ৫০

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৫৮ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পূর্ববিরোধের জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউএনও, ওসিসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বসতবাড়ি ও দোকানপাটে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের তেরকান্দা গ্রামে গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এবং গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেরকান্দা গ্রামের আমীর আলীর বংশ এবং চান্দের বংশের লোকজনের মধ্যে কয়েক মাস ধরে বিরোধ চলে আসছে। এক সপ্তাহ আগে চান্দের বংশের শাহনেওয়াজ নামের এক তরুণের সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা চুরি হয়। এ ঘটনায় চান্দের বংশের লোকজন আমীর আলীকে দায়ী করেন। এর জের ধরে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উভয়পক্ষের লোকজন দা, বল্লম, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে যান ইউএনও মোশাররফ হোসাইন, থানার ওসি রফিকুল হাসানসহ পুলিশের একটি দল। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইউএনও, ওসি এবং সরাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবীর হোসেন, সহকারী উপরিদর্শক (এএসআই) কামরুজ্জামান চৌধুরী, এএসআই আলাউদ্দীন, পুলিশ সদস্য আবদুল কুদ্দুস ও মশিউর রহমান ইটের আঘাতে আহত হন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। পুলিশ রাতে চারজনকে আটক করে।

ওই সংঘর্ষের জেরে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উভয়পক্ষের লোকজন ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় আমীর আলীর পক্ষের লোকজন চান্দের বংশের লোকজনের অন্তত ১০টি বতসবাড়ি ও একটি দোকান ভাঙচুর ও লুট করেন। এ ছাড়া শাহজাহান মিয়ার বসতবাড়িতে আগুন দিলে একটি ঘর পুড়ে যায়। পরে জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত আলী মিয়া (৪০) ও কানু মিয়াকে (৫৫) ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহত অন্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সরাইল থানার ওসি রফিকুল হাসান বলেন, ‘গতকাল রাতের ঘটনায় আমরা ইটের আঘাতে ব্যথা পেয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রামের অবস্থা শান্ত রয়েছে। গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশাররফ হোসাইন বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনা শুনে না গিয়ে পারলাম না। রাতের অন্ধকারে ইটের আঘাত পেয়েছি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমনটি হতেই পারে। তবে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। কথায় কথায় সংঘর্ষে জড়ানো যাবে না। আমি চাই এখানে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করুক।’

কিশোরগঞ্জে ক্যারম নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ : কিশোরগঞ্জে ক্যারম খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আতকাপাড়া ও পার্শ্ববর্তী কুলিয়ারচর উপজেলার ষোলরশি গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার পর কুলিয়ারচর উপজেলার ষোলরশি গ্রামের কয়েক যুবক ভৈরবের আতকাপাড়া গ্রামে ক্যারম খেলতে যান। সেখানে খেলাকে কেন্দ্র করে আতকাপাড়া গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ষোলরশি গ্রামের যুবকদের মারধর করে আতকাপাড়া গ্রামের লোকজন। পরে এ নিয়ে মঙ্গলবার আবার দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন।

এ বিষয়ে ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাজমুস সাকিব বলেন, ক্যারম খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত