জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২ টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দুই সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচক প্যানেল। ঘোষিত দলে নতুন মুখ তানজিম হাসান সাকিব। ২২ বছর বয়সী এই পেসার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত মুখ হয়ে উঠলেও লাল বলের সংস্করণে ডাক পেলেন প্রথমবার। সাকিব মূলত ডাক পেয়েছেন তাসকিন আহমেদের জায়গায়। জাতীয় দলের সিনিয়র পেসারের গোড়ালির চোটের কারণে তিনি খেলতে পারছেন না বছরের প্রথম টেস্ট সিরিজটিতে। পিএসএলে খেলতে লিটন দাস পাকিস্তানে যাওয়ায় লিটন দাস এই দলে নেই। জাকির আলির পাশাপাশি উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে আছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে ফেরানো হয়েছে দলে। চোটের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে খেলতে পারেননি মুশফিক।
প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু আর নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক মিলে ১৫ সদস্যের দলে স্পিনার নিয়েছেন ৩ জন, পেস বোলার ৪ জন, উইকেটরক্ষক ৩ জন। সাবেক অধিনায়ক এবং নির্বাচক হাবিবুল বাশারের কাছে ঘরের মাটিতে সিরিজের জন্য সদস্য সংখ্যা একটু বাড়তি বলেই মনে হচ্ছে। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে নাঈম শেখকে পরখ করা যেতে পারত, আর পেস বোলিংয়ে বৈচিত্র্য বাড়াতে শরিফুল ইসলামকে রাখা যেতে পারত বলে মনে করেন হাবিবুল।
কাউকে বাজিয়ে দেখতে, কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চাইলে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের চেয়ে উপযুক্ত সুযোগ তো আর হয় না। অথচ সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টের জন্য সম্ভাব্য সেরা দলই বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ। কেন তার ব্যাখা দিতে গিয়ে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেছেন, ‘চার-সাড়ে চার মাস পর আমরা টেস্টে ফিরছি। এরপর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জুন মাসে টেস্ট সিরিজ আছে। এজন্য আমরা চাচ্ছি না এখানে (জিম্বাবুয়ে সিরিজে) কোনো পরীক্ষা করতে।’ দেশের মাটিতে গত বছর শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে দুটি সিরিজে বাংলাদেশের বাজে পারফরম্যান্সের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন গাজী আশরাফ।
দল সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে দেশ রূপান্তরকে হাবিবুল বাশার বলেছেন, ‘আসলে আমাদের হাতে খুব বেশি বিকল্পও নেই। যারা যোগ্য তাদের ভেতর থেকেই সেরা দলটা করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে শরিফুল (ইসলাম) থাকলে ভালো হতো। আমি জানি না সে কেন নেই, কোনো চোট আছে কি না; তবে সে থাকলে বোলিংয়ে একটা বৈচিত্র্য যোগ হতো যেহেতু সে বামহাতি বোলার। ব্যাটিংয়ে টপ অর্ডারে নাঈম শেখকে পরখ করে দেখা যেতে পারত। সে ঘরোয়া ক্রিকেটে সব সংস্করণেই ভালো করেছে, ও এখন ভালো ছন্দে আছে। যেহেতু সাদমান (ইসলাম), জাকির (হাসান) ওরা খুব একটা ভালো করছে না, নাঈমকে নিয়ে একটা ঝুঁকি নেওয়া যেত। ও অনেকটা ভারতে টেস্ট দলে বীরেন্দর শেবাগ যে ভূমিকাটা রেখেছে সে রকম একটা কিছু করে দিতে পারে আর এখন ও রান করছে, ঘরের মাঠে একটা সুযোগ দিয়ে দেখা যেতে পারত।’
নতুন ক্রিকেটারদের পরখ করার প্রশ্নে হাবিবুলের অভিমত, ‘টেস্ট ম্যাচকে টেস্ট ম্যাচের মতোই খেলা উচিত। আমার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে, ২০০৩-৪ সালের দিকে মনে হয়; অস্ট্রেলিয়াকেও বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা বলে হেলাফেলা করতে দেখিনি। তারা পূর্ণশক্তির দল নিয়েই খেলেছে। কার একটা চোটের জন্য মনে হয় মার্টিন লাভকে দলে নিয়েছিল, কিন্তু সে শেষ পর্যন্ত খেলেনি। আমাদের দলটায় মুশফিক (উর-রহিম) এবং মমিনুল (হক) বাদে ব্যাটসম্যান কারোরই অভিজ্ঞতা খুব বেশি নয়। ওদের পর বোধহয় শান্ত (নাজমুল হোসেন) অভিজ্ঞতায় এগিয়ে। সাদমান, জাকির ওরা অনেকদিন ধরে টেস্ট খেললেও খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, জাকের আলি অনিক তাদেরও টেস্ট অভিষেক খুব বেশিদিন আগে হয়নি। মুশফিক-মমিনুলকে রেখেও তাই অনেক তরুণরা সুযোগ পেয়েছেন, এর চেয়ে বেশি হলে ভারসাম্য নষ্ট হতো। ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায়, তবে টেস্ট ম্যাচকে টেস্ট ম্যাচের মতোই খেলতে হয়।’
জিম্বাবুয়ে মানেই সহজ প্রতিপক্ষ আর রানের খনি, এমন একটা ধারণা প্রচলিত। হাবিবুল লম্বা সময় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা থেকেই বললেন, ‘জিম্বাবুয়ে মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ নয়, তারাও খুবই প্রতিযোগিতামূলক দল। এখানে আসার আগে তারা কিন্তু এই বছর দুই-তিনটা টেস্ট খেলে আসছে, বাংলাদেশ এই বছর এখন পর্যন্ত কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলেনি। আমাদের দলে এখন অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও নেই। তাই জিম্বাবুয়েকে সহজ প্রতিপক্ষ ভাববার কোনো কারণ নেই।’
২০১৮ সালে জিম্বাবুয়েকে হালকা চালে নিয়েই সিলেট স্টেডিয়ামের অভিষেক টেস্টে হেরে বসেছিল বাংলাদেশ, যা এখন পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের এদেশে সবশেষ জয়।
