জুলাই আহতদের নাম ব্যবহার করে জমি দখলের অভিযোগ

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৩৯ এএম

বরিশালের রূপাতলী এলাকায় সড়ক ও জনপথের জমি দখলের অভিযোগে কয়েকজন ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, তারা জুলাই আন্দোলনে আহতদের নাম ব্যবহার করে ওই জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করছেন।

শ্রমিক দিয়ে ঘর তৈরির কাজ চলছে এবং নির্মাণ তত্ত্বাবধানে দেখা গেছে কয়েকজন ছাত্রকে।

সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনালসংলগ্ন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে ও বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের মাঝখানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি একসময় ইজারা নিয়ে ২২টি স্টল নির্মাণ করেছিলেন জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক মহাপরিচালক, বর্তমানে কারান্তরীণ মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান। তার পরিবারের পরিচালিত একটি এতিমখানা মার্কেট নামে ওই স্টলগুলো নির্মিত হয়েছিল। তবে ২২ নভেম্বর সওজ ওই ২২টি স্টলসহ আরও পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে।

উচ্ছেদের চার মাস পর, ওই জমিতেই নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, উচ্ছেদ হওয়া জমিতে পুনরায় অস্থায়ী স্টল নির্মাণ করা হচ্ছে। একটি স্টলে সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী কল্যাণ সংস্থার বরিশাল শাখার অস্থায়ী কার্যালয়’। এ ছাড়া যেটি আগে ভোজনবিলাস রেস্তোরাঁ ছিল, সেখানে কাঠের স্থাপনা নির্মাণ করছেন তিনজন শ্রমিক এবং কাজের তদারকি করছেন দুজন ছাত্র।

শ্রমিকদের মধ্যে একজন কাঠমিস্ত্রি বলেন, ‘আমাদের মজুরি ভিত্তিতে কাজে আনা হয়েছে। আগে এখানে ভোজনবিলাস রেস্টুরেন্ট ছিল। এখন শুনেছি সমন্বয়করা স্টল করছেন।’ আরেক শ্রমিক বলেন, ‘সমন্বয়ক শাহেদ ভাই নিজেই স্টল ওঠাচ্ছেন বলে শুনেছি। তিনি হয়তো ইজারা নিয়েছেন।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগরের আহ্বায়ক শাহেদুল ইসলাম শাহেদ বলেন, ‘এটা দখল নিয়ে কিছুই নয়।

আমাদের একজন আহত সদস্য সেখানে বসে ব্যবসা করবেন। প্রশাসন যখন প্রয়োজন মনে করবে, তখন তারা উচ্ছেদ করবে।’

এদিকে সওজ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি ওই জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কেউ যদি সেখানে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করে, তবে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত