নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিনা কারণে ছাঁটাই, বোনাস ও বকেয়া বেতনের দাবিতে রবিনটেক্স রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা টানা ৪ ঘণ্টা ঢাকা সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় শতাধিক শ্রমিক আহত হয় বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে দিনব্যাপী ঢাকা সিলেট মহাসড়কে আউখাবো রবিনটেক্স পোশাক কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঢাকা সিলেট মহাসড়কের বিক্ষোভের কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।
বিক্ষুব্ধ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রূপগঞ্জ উপজেলার আউখাবো এলাকায় রবিনটেক্স নামে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় প্রায় ৮-১০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ২৯ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত পোশাক কারখানাটি বন্ধ রাখা হয়। বন্ধ দেওয়ার আগে গত ২৮ মার্চ বিনা নোটিসে কোনো প্রকার কারণ ছাড়াই ৬৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। এ ছাড়া পোশাক কারখানা বন্ধ দেওয়ার আগে শ্রমিকদের ৬৫ শতাংশ বোনাস দেওয়ার কথা থাকলেও ৫০ শতাংশ মালিকপক্ষ প্রদান করেন। এ ছাড়া এক মাসের বেতন প্রদানের কথা থাকলেও ২০ দিনের বেতন দিয়েই কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গত মঙ্গলবার কারখানা খোলার দিন শ্রমিকরা মালিকপক্ষকে ছাঁটাইয়ের কারণ, বেতন ও বোনাস দেওয়ার কথা বললে মালিকপক্ষ নানা রকম টালবাহানা শুরু করেন। গতকাল সকালে আগের মতোই তাদের দাবি নিয়ে কারখানার ভেতরে অবস্থান করছিল। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাজে যোগ দেওয়ার কথা বললে তাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে শ্রমিকরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পানির বোতল নিক্ষেপ করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেন। পরে শ্রমিকরা কারখানার বাইরে এসে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরাতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিকরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মুবিন, সৈনিক বাঁধন, সোহরাব, মেহেদী, শ্রমিকদের মধ্যে শাফিয়া, রুনা, মলিনা, মাজেদা, রুপুসহ শতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনরত কয়েকজন শ্রমিক বলেন, ঈদের আগে আমাদের ৬৫ জন শ্রমিককে বিনা নোটিসে ছাঁটাই করে দেয় কর্তৃপক্ষ। আমরা আমাদের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। আমরা কারখানার ভেতরে শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আমাদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করেন। এতে নারীসহ আমাদের ৬৫ জন শ্রমিক আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ভূলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, রবিনটেক্স গার্মেন্টস কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কাজে যোগ দেওয়ার কথা বললে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে জেলা গ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেদী হাসান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে। আমার গাড়ির ভাঙচুর করা হয়েছে। আমাদের প্রায় ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
শ্রীপুরে সোয়েটার কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ : এদিকে গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি সোয়েটার কাখানার কয়েকশ শ্রমিক দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। সকালে কারখানায় এলে জানানো হয় তাদের কারখানাটি অনির্দিষ্টকালে জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরে সব শ্রমিক একত্র হয়ে আন্দোলন বিক্ষোভ শুরু করেন।
গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ভুতুলিয়া গ্রামের সি অ্যান্ড আর সুয়েটার কারখানায় এ আন্দোলন শুরু হয়। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্তও শ্রমিকরা আন্দোলন করছিলেন।
তাদের দাবি মালিক পক্ষের টাকার সমস্যা আছে বলে দুই মাস ধরে তাদের বেতন আটকে রাখা হয়েছে। এখন সে পাওনা বেতন না দিয়ে আচমকা কোনো ঘোষণা ছাড়াই সকালে কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেয়। এতে শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বেতন পাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু করেন।
কারখানার অ্যাডমিন অফিসার মেহেদী হাসান জানান এ ব্যাপারে কোনো কথা বলা যাবে না। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা চলছে। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি জয়নাল আবেদীন ম-ল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে। তারাও কথা বলছে শ্রমিকদের সঙ্গে। আপাতত শান্তিপূর্ণভাবেই আন্দোলন করছে শ্রমিকরা।
