মেটার প্রধান ও সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের বিরুদ্ধে একচেটিয়া বাজার দখলের মামলায় বিচারকাজ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত সোমবার ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালতে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলে ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলাটির বিচার আর হবে না বলে আশা করছিলেন জাকারবার্গ। তবে এখন তার সে আশায় ছেদ পড়েছে।
বিবিসি বলছে, মার্ক জাকারবার্গের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপকে প্রতিযোগিতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করা এড়াতে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম (মেটা) বাজারক্ষমতার অপব্যবহার করেছে।
ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) কৌঁসুলিরা যুক্তি দিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক (পরে মেটা নাম গ্রহণ) বাজার প্রতিযোগিতাকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে ওই দুই প্রতিষ্ঠানকে ‘গ্রাস’ করেছে।
২০১১ সালে ফেসবুকের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে সতর্ক করা হয়েছিল যে, ইনস্টাগ্রাম স্মার্টফোনে একটি জনপ্রিয় অ্যাপ হয়ে উঠেছে এবং জাকারবার্গের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নেটওয়ার্ক (ফেসবুক) যা অফার দেয়, তা সহজেই অনুলিপি করতে পারে এটি।
ইনস্টাগ্রামকে অধিগ্রহণ করাবিষয়ক ২০১২ সালের আরেকটি ইমেইলে কোনো উন্নয়ন না করেই জনপ্রিয় এ অ্যাপ চালু রাখার ও ফেসবুকের নিজস্ব সেবার উন্নয়ন করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল, ফেসবুকের হতাশ ব্যবহারকারীদের এ প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাওয়া এড়ানো।
ইনস্টাগ্রামকে অধিগ্রহণ করার আগে এসব ইমেইলকে প্রাথমিক কথাবার্তা হিসেবে খাটো করে দেখান মার্ক জাকারবার্গ।
বিবিসি বলছে, মামলায় হারলে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ছেড়ে দিতে বাধ্য হতে পারে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, যা ওই দুই অ্যাপ কেনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জগতে বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
মামলায় শুনানি শুরুর পর এফটিসির অ্যাটর্নি ড্যানিয়েল ম্যাথসন বলেছেন, তারা (মেটা) সিদ্ধান্ত নেয় যে, প্রতিযোগিতা করাটা খুবই কঠিন। তাই প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামার চেয়ে এগুলো কিনে নেওয়াই সহজ।
