আলী রীয়াজ বললেন

জাতীয় সনদ রাষ্ট্র সংস্কারের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়িত করবে

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:২৯ এএম

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জাতীয় সনদ জনগণের রাষ্ট্র সংস্কারের আকাক্সক্ষাকে বাস্তবায়িত করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সময় আমরা টেবিলের দুপ্রান্তে বসলেও দুই পক্ষ নই। আমরা এক পক্ষ, আমাদের লক্ষ্য এক। আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের একটি সুনির্দিষ্ট পথ খুঁজে বের করে একটি জাতীয় সনদ তৈরি করতে সবাই চেষ্টা করছি।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (বাংলাদেশ) এনডিএম-এর আলোচনার শুরুতে অধ্যাপক আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন। এ সময় কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য সৃষ্টির লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আরও দুটি দল বাংলাদেশ বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আলোচনার শুরুতে অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, আমাদের পথের ক্ষেত্রে সামান্য ভিন্নতা আছে। আলোচনার মাধ্যমে এই মতভিন্নতা দূর করা যাবে। যে ঐক্যের মাধ্যমে আমরা একটা ফ্যাসিবাদী শাসনকে পরাস্ত করতে পেরেছি, সেই ঐক্যের জায়গাকে অব্যাহত রেখে তা আরও সুদৃঢ় করতে পারব।

আলী রীয়াজ বলেন, কমিশনের মেয়াদ ১৫ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে । আমরা স্বল্পতম সময়ের মধ্যে একটি জাতীয় সনদ তৈরি করতে চাই। যা রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতার ওপর নির্ভর করছে। এ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে অভূতপূর্ব, অভাবনীয় এবং অবিশ্বাস্য সহযোগিতা পেয়েছি। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে যেসব বিষয়ে আমাদের মতের মিল বা অমিল রয়েছে তা চিহ্নিত করে পরবর্তী সময়ে জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতে পারব।

আলোচনায় এনডিএম-বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন দলটির মহাসচিব মোমিনুল আমিন, ভাইস-চেয়ারম্যান ফারুক উজ জামান চৌধুরী, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার সাহিদুল আজমসহ প্রমুখ। বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের বৈঠকে সাধারণ সম্পাদক ইকবাল করিম জাহিদ এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশুর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল এ আলোচনায় অংশগ্রহণ করে।

প্রথম পর্যায়ে গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর মধ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লিখিত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর ওপর রাজনৈতিক দলের সুনির্দিষ্ট মতামত জানাতে অনুরোধ করে সুপারিশগুলোর স্প্রেডশিট আকারে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত সংস্কার বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩৪টি দলের কাছ থেকে মতামত পেয়েছে এবং এ পরিপ্রেক্ষিতে ১১টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেছে কমিশন।

সংস্কার কমিশনগুলোর করা সুপারিশ চূড়ান্ত করতে গত ২০ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সংস্কার বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়েছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত