সেতুতে উঠতে হয় সাঁকো বেয়ে

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৪৭ এএম

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের ছনকা এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর শাখা খালের উপর নির্মিত সেতুর ও দুই পাশের রেলিং ভেঙে গেছে। হেলে পড়েছে সেতটিু। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বাধ্য হয়ে এই সেতু দিয়েই চলাচল করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ নদীভাঙন ও সেতুর নিচ থেকে মাটি উত্তোলনের ফলে সেতুটি কাত হয়ে গেছে। ২০০৬ সালে ৪০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণের কিছুদিন পর বন্যার সময় পানির তোড়ে এর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেসে যায়। এ অবস্থায় তখন থেকেই এই সেতু দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। প্রায় ১৯ বছর ধরে দুই পাশের সংযোগ সড়ক না থাকায় বাঁশের সাঁকো তৈরি করে এলাকাবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে ওঠা-নামা করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সরজমিন ঘুরে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে ধলেশ্বরী নদীর স্রোত প্রবাহিত হয়। এ ছাড়া স্থানীয় একটি চক্র সেতুর নিচ থেকে মাটি উত্তোলন করে। ফলে পানির তোড়ে সেতুটি এক দিকে কাত হয়ে পড়ে।

সেতুটির বেহাল অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিকল্প রাস্তা না থাকায় পথচারীসহ কৃষকদের উৎপাদিত ফসল আনা নেওয়ার  ক্ষেত্রেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ছনকা গ্রামের আরশেদ আলী বলেন, সেতুর দুই পাশের বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়। সেতুটি পার হলেই ছনকা বাজার। এখন ছনকা বাজারে ঘুরে আসতে খরচ ও সময় লাগে বেশি। ছনকা বাজারে যেতে ১০ গ্রামের প্রায় ৬ হাজার মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা জুরুরি হয়ে পড়েছে।

একই গ্রামের আরফান আলী বলেন, ‘সেতুর ওপর দিয়ে পারাপার হওয়ার সময় ভয় হয় এই বুঝি পড়ে গেলাম। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কৃষিপণ্য আনা নেওয়া করছি ও বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করছি। এখন ১০ মিনিটের রাস্তা ঘুরে আসতে সময় লাগে এক ঘণ্টার বেশি।’

ছনকা বাজারের জসিম মিয়া বলেন, সেতুর বেহাল অবস্থা দেখে আমরা স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবছর ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ করে সেতুর দুই পাশে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে সেতু পার হই।

বরাইদ ইউপির সদস্য আব্দুল মজিদ বলেন, ‘ওই সেতু দিয়ে মানুষ চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুর পাশেই একটি কবরস্থান রয়েছে। সেতুটি সংস্কার না করায় এলাকার কেউ মারা গেলে এই সেতু দিয়ে কোনো লাশ আনা নেওয়া করা যায় না। বিশেষ করে কৃষক ও শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছে।’

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান মোল্লাহ বলেন, ধলেশ্বরীর শাখা নদীর ওপর সেতু আছে তা আমার জানা ছিল না। তবে তিনি দাবি করেন, সেতুর নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় ও স্রোতের কারণে পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে সেতুটি হেলে পড়েছে। সেতুটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত