বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রয়াত কবি রফিক আজাদের স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডির বাড়িটির একাংশ ভেঙে ফেলেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। বুধবার ধানমন্ডি থানা পুলিশের উপস্থিতিতে বাড়িটির পশ্চিমাংশ ভেঙে ফেলা হয়। এদিকে, রাজধানীর ডেমরায় রাজউকের অভিযানে নির্মাণাধীন তিনটি ভবনের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক হিসেবে ধানমন্ডির বাড়িটির বরাদ্দ পেয়েছিলেন কবি রফিক আজাদের স্ত্রী দিলারা হাফিজ। তিনি সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। সর্বশেষ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর অবসরে যান।
দিলারা হাফিজ গণমাধ্যমকে বলেন, কোনো নোটিশ ছাড়াই পুলিশ এসে বাড়ির পশ্চিম অংশ ভেঙে ফেলে। এরপর আমাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসবাবপত্র ও জরুরি জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান মুলতবি করে। তিনি বলেন, বাড়িটি নিয়ে আদালতের স্টে অর্ডারও আছে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিত্যক্ত ভবনটি আমাকে বসবাসের জন্য দিয়েছিল সরকার। এরপর থেকে আমরা এই ভবনে বসবাস করি। কবি রফিক আজাদের অধিকাংশ কবিতা এই ভবনে বসে লেখা।
দিলারা হাফিজ বলেন, ‘২০১৬ সালে রফিক আজাদ মারা যাওয়ার পর থেকে আমরা তার স্মৃতি রক্ষার্থে এই ভবনটি সংরক্ষণের জন্য সরকারের কাছে বারবার চিঠি দিয়েছি। গত ১১ এপ্রিল উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের (গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা) সঙ্গেও দেখা করেছি। তিনি আমাদের জানান, এটা আইনের বিষয়, আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। এরপর আমাদের কোনো প্রকার নোটিস না দিয়ে আজ সকালে ভাঙার কাজ শুরু করে। তারা বাড়িটি ফাঁকা করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় বেঁধে দেননি।’
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর বিভাগ-২ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৈয়ব-উর-রহমান আশিক বলেন, ‘অভিযান চালানোর জায়গায় চারটি একতলা ভবন রয়েছে, যার সবগুলো ভাড়াটিয়াদের দখলে। এর মধ্যে কবি রফিক আজাদের বাসভবনসহ দুটি ভবনের বিষয়ে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ আছে। আমরা রফিক আজাদের বাড়ির পেছনের দুটি ভবন ভেঙে ফেলেছি।’ তিনি বলেন, ‘কবি রফিক আজাদের বাসভবনের কোনো অংশ ভাঙা হয়নি।’
রাজউকের অভিযান ৩ বাড়ির নির্মাণ কাজ বন্ধ রাজধানীর ডেমরায় আবাসিক এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এ সময় অনুমোদিত নকশা না মানার জন্য নির্মাণাধীন তিনটি ভবনের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে দুটি ভবন মালিককে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনির হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্বে গতকাল বুধবার দুপুরে ডেমরার পূর্ব হাজিনগর এলাকায় এ অভিযান চালায় রাজউক। অভিযানে নির্মাণাধীন ৩ ভবনের কাজ বন্ধ করা হয়। এর মধ্যে ক্ষণিকালয় নামে ১০তলা একটি ভবনে নগদ এক লাখ ও আইয়ুব নবী এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ভবনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ওই দুই ভবনের দেয়ালের নকশাবহির্ভূত অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় রাজউকের পরিচালক (জোন-৬) শামীমা মোমেন, অথরাইজড অফিসার জোন-৬/২ জান্নাতুল মাওয়া, সহকারী অথরাইজড অফিসার শাহনাজ খানম, প্রধান ইমারত পরিদর্শক নজরুল ইসলাম মনি, বাসুদেব ভট্টাচার্য, ইমারত পরিদর্শক ফিরোজ আলম, নাজিম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনির হোসেন হাওলাদার বলেন, বিগত দিনে রাজধানীতে যত ভবন নির্মাণ হয়েছে নীতিমালা ভঙ্গ করে সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা সরকার নেবে। রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশে বর্তমানে ভবন নির্মাণে কোনো প্রকার অনিয়ম দুর্নীতি চলবে না। আমরা সরেজমিন দেখেছি ভবন নির্মাণকারীরা নিয়মবহির্ভূতভাবে সড়কে নির্মাণসামগ্রী রেখে মানুষের চলাচল বিঘিœত করছে। আর ভবন নির্মাণে রাজউকের কোনো প্রকার নীতিমালা তারা মানছে না। তাই আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে যে অভিযান পরিচালনা করছি এতে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে যাতে তারা ভবিষ্যতে রাজউক নীতিমালা ভঙ্গ করে কোনো প্রকার কাজ না করেন। বিশেষ করে নীতিমালা ভঙ্গ করে যারা কাজ করে তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করে। পরিমাণ মতো জায়গা না ছেড়ে কাজ করলে অভ্যন্তরীণ সড়ক অপ্রশস্ত হয়ে যায়। আর ভবনের চারপাশ খোলামেলা না রাখলে আগুন লাগাসহ অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসসহ কোনো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারে না।
এ বিষয়ে ক্ষণিকালয় ভবনের পরিচালক হাফিজ আহমেদ পাটোয়ারী বলেন, টাকা ছাড়া রাজউকে কোনো প্ল্যান পাস হয় না। এক একটি প্ল্যান পাস করতে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। আর রাজউকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা না করে আমরা কোনো কাজ করিনি। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ চলমান রেখেছি। অথচ ৫ আগস্টের পর নতুন করে আবারও নিয়ম বানিয়েছে রাজউক। বিগত দিনে এই অঞ্চলের কোনো ভবন মালিক রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেনি। কিন্তু কারও না কারও অভিযোগের ভিত্তিতে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
