ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত ‘সিম্পলি ফুটবল’ অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার সাবেক ডিফেন্ডার কিকে উলফকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা, তার চোখে এমএলএস, তিন ছেলের ফুটবল খেলাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। সেখানেই মেসি জানিয়েছেন কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর বার্সেলোনায় ফিরতে চেয়েছিলেন।
বার্সেলোনায় ফেরা নিয়ে মেসি বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর, আমি বার্সা ছাড়া অন্য কোনো ইউরোপীয় দলের হয়ে খেলতে চাইনি। আমার লক্ষ্য ছিল ফিরে যাওয়া, আমার বাড়িতে ফেরা, যেখান থেকে সবকিছু শুরু হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তা সম্ভব হয়নি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে এমএলএসে খেলার সিদ্ধান্তটি পারিবারিক, যে ক্লাবটিতে খেলছি তারা বেড়ে উঠছে এবং দারুণ কিছু জয়ের স্বপ্ন দেখে।’ বিশ্বকাপের পর পিএসজির সঙ্গে চুক্তি শেষে মেসি যোগ দেন ইন্টার মায়ামিতে। তাতে মেজর লিগ সকারের দিকে নতুন করে নজর পড়ে ফুটবল বিশ্বের। মেসির চোখে এমএলএস কেমন, সেই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘এই লিগে শারীরিক শক্তির পরীক্ষা হয়, অনেক তরুণ খেলোয়াড় তাদের ট্যাকটিক্যাল দুর্বলতা শারীরিক শক্তি দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করে। দেখে হয়তো তেমনটা মনে হয় না, কিন্তু দলগুলোর খেলোয়াড়রা অনেক দৌড়ায়। আমার মনে হয়, এই লিগে দলগুলো ক্রমেই আরও ভালো হচ্ছে। এই মৌসুমে দলগুলো অনেক বিদেশি খেলোয়াড় চুক্তিভুক্ত করে আরও শক্তিশালী হয়েছে।’
২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন কি না সেই প্রশ্নের উত্তর এবারও সরাসরি দেননি মেসি। ‘২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে আমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে এ বছরটা গুরুত্বপূর্ণ হবে। অবশ্যই আমি বিশ্বকাপ এবং সেখানে থাকা নিয়ে ভাবছি। কিন্তু আমি প্রতিটি দিন ধরে ধরে এগোচ্ছি। ওই আসরে আমি থাকতে পারব কি না, এ বিষয়ে নিজের কাছে আমাকে সৎ থাকতে হবে।’
২০২২ বিশ্বকাপ জয় নিয়ে মেসি বলেন, ‘এর চেয়ে বেশি কিছু চাইতে পারতাম না। শুধু বিশ্বকাপটাই ছিল না। আমি সবকিছু জিতেছি। সবকিছুই অর্জন করেছি। বিশ্বকাপ বার্সেলোনায় আছে, সেখানে রাখা আছে। (আমার) সব ট্রফি ও পুরস্কার বার্সেলোনায়।’ ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল আর্জেন্টিনা। হারতে হয় জার্মানির কাছে। এ নিয়ে মেসি বলেন, ‘২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারাটা আমার জন্য যন্ত্রণার ছিল। পরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সবকিছু সহনীয় হয়েছে। দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টেছে। আমি দুটি বিশ্বকাপ জিততে পারতাম, তবে আমার বিশ্বকাপ আছে।’
তিন ছেলেকে নিয়ে মেসি বলেন, ‘তারা সারা দিন বল নিয়েই থাকে। তাদের সঙ্গে আমিও উপভোগ করি। প্রতিদিন অনুশীলন করে, লড়াই করে এবং ম্যাচ খেলে। (কে ভালো খেলে) আমি যদি এখন একজনের নাম বলি পরে তারা বলবে, ‘তুমি কেন তার নাম বললে। তাই নামটা আমি নিজের কাছেই রাখি।’ তিন ছেলের মধ্যে কার কেমন ফুটবল প্রতিভা সে বিষয়ে মেসি বলেন, ‘থিয়াগো (বড় ছেলে) চিন্তাশীল, একজন মিডফিল্ডার। মাতেও (মেজ ছেলে) ফরোয়ার্ড, সে গোল করতে ও গোলের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে এবং একজন বুদ্ধিমান খেলোয়াড়। চিরো (ছোট ছেলে) আরও বিস্ফোরক। সে চ্যালেঞ্জ জানাতে পছন্দ করে এবং একজন ওয়ান অন খেলোয়াড়।’
