বিএনপি নেতাকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ জামায়াতের বিরুদ্ধে 

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৪২ এএম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় অটোরিকশা স্ট্যান্ডের ইজারার টাকা তোলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপির এক নেতাকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে থানা গেটের সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আজাদ হোসেন আজাদ উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।

উল্লাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নিয়ামুল হক জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।

উল্লাপাড়া উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নিক্সন কুমার আমিন বলেন, উল্লাপাড়া  মোটর মালিক সমিতির অফিসে নিয়মিত উঠাবসা করেন বিএনপি নেতা আজাদ। ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা এ বছর সিএনজি স্ট্যান্ডের ইজারা পেয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা ইজারা তুলতে এসে মোটর মালিক সমিতির অফিসের কক্ষ থেকে শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি নামিয়ে ফেলতে বলেন। এ নিয়ে ওই সময় স্থানীয়দের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

তিনি বলেন, শুক্রবার উপজেলা মসজিদে জুমার নামাজ পড়ে বিএনপি নেতা আজাদ থানার গেটের সামনে যান। সেখানে বৃহস্পতিবারের ঘটনার জের ধরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৩/৪ জন নেতাকর্মী আজাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। তারা হাতুড়ি ও রড দিয়ে পিটিয়ে মাথা ও ঘাড়ে রক্তাক্ত জখম করে দ্রুত পালিয়ে গেছে।

উল্লাপাড়ার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি কাজী জহুরুল ইসলাম পিনু বলেন, পহেলা বৈশাখে জামায়াতের পক্ষ থেকে উল্লাপাড়া সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারা নেওয়া হয়েছে। জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ইজারার টাকা তুলতে গেলে বিএনপি নেতা আজাদের সমর্থক দলীয় নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার বিকেলে ও শুক্রবার সকালে তাদের দুই দফা মারধর করেছে। এরই জের ধরে বিএনপি নেতা আজাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

নিয়ামুল হক বলেন, অভিযুক্তদের পরিচয় ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিরাজগঞ্জ সহকারী পুলিশ সুপার (উল্লাপাড়া সার্কেল) অমৃত সূত্রধর বলেন, জুমার নামাজ শেষে বিএনপি নেতা তার কয়েকজন লোকের সঙ্গে থানার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। ওই সময় তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল ৪-৫ জন ছেলে। এ সময় কালো পাঞ্জাবি ও মাথায় টুপি পরা একটা ছেলে হঠাৎ করে এসে ঘুষি মারে। তিনি যখন থানার ভেতরে দৌড় দেন, তখন হাতুড়ি দিয়ে তাকে আঘাত করে। এতে তার মাথায় আঘাত লাগে। যে আঘাত করেছে আমরা তার পরিচয় জানতে পেরেছি, তার পদ-পদবি আছে কি না সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত