অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে সারা দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। গত বৃহস্পতিবার সংগঠনের সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম এবং মহাসচিব মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সংস্কারের লক্ষ্যে কতিপয় সংস্কার কমিশন গঠন করে। দীর্ঘ আলোচনা ও গবেষণার পর সংস্কার কমিশনগুলো তাদের সংস্কার প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেছে। বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের অন্যতম একটি সংস্কার প্রস্তাব ছিল অধস্তন আদালতের জন্য পৃথক সচিবালয়। কিন্তু আমরা লক্ষ করেছি যে, বর্তমান সরকার বিচার বিভাগ সংস্কারের লক্ষ্যে যেসব সংস্কার প্রস্তাব অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করার তালিকা করেছে, তার মধ্যে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে ব্রিটিশ আমল থেকে বিচার বিভাগ পৃথককরণ ইস্যুটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হলেও স্বাধীন বাংলাদেশে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও কোনো সরকারই তা বাস্তবায়নের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
বিবৃতিতে বিচার বিভাগ পৃথককরণে ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলাটি উল্লেখ করে বলা হয়, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তার আংশিক বাস্তবায়ন হয়। এরপর আর কোনো অগ্রগতি আমরা দেখতে পাইনি।
এতে বলা হয়, বিগত দিনের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখতে পাই যে, রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার মসনদে গেলে দলীয় স্বার্থের কথা ভেবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা আর চিন্তা করে না। এজন্য বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকাল এক সুবর্ণ সুযোগ বলে আমরা মনে করি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম এবং প্রধান অনুষঙ্গ হলো স্বাধীন বিচার বিভাগ। সমাজে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে স্বাধীন বিচার বিভাগের বিকল্প নেই। বিগত দিনে বিচার বিভাগকে কীভাবে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে ন্যায়বিচারকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে, তার নজির আমরা সবাই লক্ষ করেছি। এতে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে স্বাধীন বিচার বিভাগের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূরীভূত না হলে ভবিষ্যতেও হীন স্বার্থে বিচার বিভাগকে ব্যবহারের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।
বিবৃতিতে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক বিচার বিভাগ সংস্কারে ১২ দফা প্রস্তাবনাসহ রোডম্যাপ ঘোষণার বিষয়ে বলা হয়, জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ওই রোডম্যাপ বাস্তবায়নে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সংস্কার কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
