দুস্থদের চাল প্যানেল চেয়ারম্যানের পেটে

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৪৮ এএম

দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে খট্টামাধবপাড়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ছদরুল শামীম স্বপনের বিরুদ্ধে গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ করা ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় নাম থাকার পরও চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকে। ভুয়া ও মৃত ব্যক্তির নাম দিয়ে তালিকা করে ১৮ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ এনে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্যানেল চেয়ারম্যান। তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গত ১৬ মার্চ ঈদ উপহার হিসেবে ইউনিয়নের ৪ হাজার ১৬৯ জন গরিব মানুষের নামে ১০ কেজি করে এই চাল বিতরণ করা হয়। তালিকায় নাম থাকার পরও অনেকে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চাল না পেয়ে ফিরে এসেছেন। আবার অনেকের নাম থাকলেও তারা জানেন না। তাদের নামের চাল অন্য কেউ উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় একজনের নাম একাধিকবার, এক ওয়ার্ডের নাম অন্য ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত ও মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করে ১৮০০ জনের নামে বরাদ্দের ১৮ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এই কাজে শাহানুর রহমান, আবুল কাশেম ও জাহাঙ্গির আলম নামের তিন ইউপি সদস্য জড়িত বলে গত ৯ এপ্রিল করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৩৩৪ ক্রমিক নম্বরধারী চাল না পাওয়া মেরিনা খাতুন বলেন, ‘ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমাদের ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা ছিল। ভিজিএফের তালিকায় আমার নাম রয়েছে। তারপরও আমাকে চাল দেওয়া হয়নি।’

২৩৩৫ ক্রমিক নম্বরধারী চাল না পাওয়া জয়নুল ইসলাম বলেন, ‘আমার নাম দিয়ে কে বা কারা চাল তুলে নিয়েছে তা জানি না।’

লিখিত অভিযোগকারী সাইমুমুর রহমান ডলার বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে গরিব মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভিজিএফের ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু তালিকায় নাম থাকার পরও অনেকে চাল পাননি। আবার একই ব্যক্তির নাম একাধিক জায়গায় দেখা গেছে। এমনকি মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে চাল বিতরণ দেখানো হয়েছে। অসংখ্য ভুয়া নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ১৮ টন চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সে কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ছদরুল শামীম স্বপন বলেন, ‘চাল বিতরণের এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে ও আমার সম্মানহানি করতেই এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আমি যেদিন চাল বিতরণ করি, সেদিন ইউএনও স্যারের প্রতিনিধি, সব ইউপি সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও গ্রাম-পুলিশ উপস্থিত ছিল। তাদের সবার উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে চাল বিতরণ করা হয়েছে। আমি জানি, আমার ইউনিয়ন পরিষদে সম্পূর্ণ সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ করেছি।’

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, ‘আমাদের উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ছদরুল শামীম স্বপনের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তালিকায় থাকার পরও কেউ কেউ ভিজিএফের চাল পাননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য পিআইওকে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত