পিরিফরমিস সিনড্রোম

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:২৭ এএম

পিরিফরমিস সিনড্রোম একটি বেদনাদায়ক অবস্থা। যা পিরিফরমিস পেশি দ্বারা সায়াটিক নার্ভে চাপ দেওয়ার ফলে হয়। পিরিফরমিস পেশি আমাদের নিতম্বের জয়েন্টের ওপরে একটি সমতল বা ব্যান্ডের মতো পেশি, যেটি শরীরের নিচের দিকের নড়াচড়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের নিতম্বের জয়েন্টকে স্থিতিশীল করে এবং হাঁটতে সাহায্য করে। আমাদের ঊরুকে ওপরে ওঠানো এবং ঘোরাতেও সাহায্য করে। সায়াটিক নার্ভ শরীরের একটি পুরু এবং লম্বা নার্ভ। এটি পিরিফরমিস পেশির পাশ অথবা নিচ দিয়ে নিতম্ব থেকে শুরু করে পায়ের পিছ দিয়ে পাতা পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়।

কেন হয়

 পিরিফরমিস পেশিতে আঘাতের কারণে সায়াটিক নার্ভে চাপ প্রদান।

 সায়াটিক নার্ভের প্রদাহ।

 পিরিফরমিস পেশির রক্তক্ষরণ।

 স্থূলতা।  সঠিক দেহভঙ্গিতে না বসা।

লক্ষণ

 নিতম্বে মৃদু থেকে তীব্র ব্যথা।

 ব্যথা পায়ের পাতা পর্যন্ত ছড়িয়ে যাওয়া।  পুরো পা অবশ বা ঝিমঝিম করা।  নিতম্বে টিপ দিলে ব্যথা অনুভূত হওয়া।  হাঁটতে বা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে ব্যথা অনুভূত হওয়া।  দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে নিতম্বে ব্যথা অনুভূত হওয়া।

চিকিৎসা

পিরিফরমিস সিনড্রোমে রোগীভেদে চিকিৎসার মাত্রাও ভিন্ন হয়ে থাকে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিতম্বের ব্যথা নিজ থেকেই চলে যায়। তবে তা না গিয়ে যদি পায়ে ছড়িয়ে পরে তবে দ্রুতই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ফিজিওথেরাপি

ওষুধ সেবনের পাশাপাশি থেরাপি রোগীকে সুস্থ করে। ফিজিওথেরাপির ভেতরে আছে ব্যায়াম এবং ইলেকট্রোথেরাপি।

ব্যায়াম

নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম যা নিতম্বের পেশিকে শিথিল, প্রসারণ এবং শক্তিশালী করার মাধ্যমে ব্যথাকে প্রশমিত করে ।

ইলেকট্রোথেরাপি

ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশন ‘চধরহ ঝরমহধষ’-এর ওপর কাজ করে একে বাধা দিয়ে ‘চধরহ ংবহংবঃরড়হ’কে কমিয়ে দেয়, ফলে ব্যথা কমে যায়। ব্যথার স্থানে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করার মাধ্যমে ‘চধরহ সবফরধঃড়ৎ’গুলোকে ‘ধিংযড়ঁঃ’ করে ব্যথা প্রশমিত করে।

শল্যচিকিৎসা

অন্যান্য চিকিৎসায় রোগী ভালো না হলে সবশেষে রোগীকে শল্যচিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে মূলত পিরিফরমিস পেশির যে অংশটুকু সায়াটিক নার্ভকে চাপ দিয়ে রেখেছে ওইটুকু কেটে ফেলে সায়াটিক নার্ভকে চাপমুক্ত করে ব্যথা প্রশমিত করে।

মেডিকেল কাউন্সেলিং

ভালো থাকার জন্য রোগী কী করবেন আর কী করবেন না তা এখানে রোগীকে বুঝিয়ে বলা হয়।

রোগী যা করবেন

 বাসায় হাল্কা গরম পানির সেঁক দেবেন ব্যথার স্থানে ৩ থেকে ৪ বার।  নিয়মিত শেখানো ব্যায়াম করবেন ৩ থেকে ৪ বার।

রোগী যা করবেন

 একটানা দীর্ঘক্ষণ শক্ত কিছুর ওপর বসে থাকা।  নিতম্বের পকেটে মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন, চাবির গোছা রাখা, যা সায়াটিক নার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক দেহভঙ্গি বজায় রাখা, সর্বোপরি প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তনের মাধ্যমেই আমরা ‘পিরিফরমিস সিনড্রোম’ থেকে মুক্তি পেয়ে একটি চমৎকার সুন্দর ব্যথামুক্ত জীবন গড়তে পারি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত