নিয়ম ভেঙে প্রকৌশলীদের এসি বিলাস

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৪০ এএম

সরকারি বিধি অনুযায়ী উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলী তাদের অফিস কক্ষে কোনো ধরনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে বরগুনার তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন ও উপ-সহকারী গালিফ সত্তার এর ব্যতিক্রম। তারা সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের বিলাসিতার জন্য ইচ্ছামতো অফিস সংস্কার ও সাজসজ্জা করে কক্ষে এসি লাগিয়েছেন। এ ছাড়াও উপজেলা পরিষদ ভবনের অন্য রুমের ডিজাইন পরিবর্তন করে নিজেদের ইচ্ছামতো রুম সংস্কার করেছেন।

জানা যায়, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের ভবন ও ডরমেটরি ভবনের সংস্কারের জন্য ১৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩৩৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মহিউদ্দিন আহম্মেদ। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকেন উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বিধি অমান্য করে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে প্রাক্কলন ছাড়া ঠিকাদার কর্তৃক নিজ দপ্তরের দুজন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর রুমের ডিজাইন পরিবর্তন করে এসি স্থাপন করেন। এই দপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার জন্য আলাদা পার্টিশন করে রুম ও টয়লেট স্থাপন করে দেওয়া হয়। এতে তৎকালীন সময়ে অন্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের তোপের মুখে পড়ে এসির বিল ওই প্রকল্পের টাকা দিয়ে পরিশোধ করতে পারেনি।

উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেনের ভাষ্যমতে, দুই উপসহকারী প্রকৌশলীর এসির জন্য নিজ দপ্তরের বিভিন্ন খাতের খরচ দেখিয়ে এসি স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু অদ্যবধি প্রাক্কলন অনুযায়ী ওই প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় এখনো ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়নি। এদিকে উপজেলা পরিষদের ভবন ও ডরমেটরি ভবনের সংস্কারের বেশির ভাগ কাজ উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর এবং নিজ ডরমেটরির রুমে করানো হয়। উপজেলা প্রকৌশলীর নিজের রুমেও একটি এসি স্থাপন করা রয়েছে। এ ছাড়া ওই দপ্তরের দুটি এসিসহ সব বিদুৎ বিল সরকারি টাকায় পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দশম গ্রেডের কর্মকর্তা হয়ে ইচ্ছমতো এসি ব্যবহার করে যাচ্ছেন, যা সরকারি বিধি বহির্ভূত। এই দপ্তরের লোকজন ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্পের টাকা দিয়ে নিজেদের বিলাসিতার জন্য তাদের রুম ইচ্ছামতো সংস্কার করেছেন। এ ব্যাপারে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তারা।

তালতলী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মু. আ. মোতালিব বলেন, ‘সরকারি টাকায় নিজেদের বিলাসিতার জন্য এসি লাগানো অনুচিত। এসির বিদ্যুৎ বিল সরকারি টাকায় পরিশোধ করা আরেকটি অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এক রুমে তিনজন উপসহকারী প্রকৌশলী বসেন। তাই তাদের টিএ বিল ও সরকারিভাবে অফিস খরচের বিল দিয়ে এসি স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে উপজেলা পরিষদের ভবন ও ডরমেটরি ভবনের সংস্কারের টাকা দিয়ে এসি দেওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের থেকে প্রশ্ন ওঠে। এ কারণে এইভাবে এসি স্থাপন করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালমা বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানি না। ওই দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাতে পারব।’ বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খান বলেন, ‘প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীরা এসি ব্যবহার করতে পারবে না। তারা যেহেতু উপজেলা পরিষদ ভবনে থাকেন বিষয়টি সেখানকার কর্তৃপক্ষ দেখবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত